হুমায়ুন কবির , ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:৫৪:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে রাজনৈতিক সফরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তাঁর এই বহুল প্রতীক্ষিত আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ব্যানার–ফেস্টুনে সাজানো হচ্ছে, প্রস্তুত করা হচ্ছে জনসভাস্থল। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস।
দলীয় সূত্র জানায়, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আসবেন তারেক রহমান। জনসভাকে কেন্দ্র করে মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা ও নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতির কাজ পুরোদমে চলছে।
এর আগে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর এই আগমনকে স্থানীয় মানুষ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা থেকে উত্তরণের প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে একের পর এক সরকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ঠাকুরগাঁও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পায়নি। জেলায় এখনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক মেডিকেল কলেজ কিংবা বড় শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। ফলে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিতই রয়ে গেছে।
কৃষিনির্ভর এই জেলায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি। আর্থিক সংকট ও দূরত্বের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল, একমাত্র চিনিকলটিও লোকসানের বোঝা টানছে। এসব কারণে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিমানবন্দর চালু, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে তারেক রহমানের ঘোষিত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জেলার স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। জেলা ক্রিকেট কোচ মো. রোকুনুজ্জামান রাহাত বলেন, পর্যাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামোর অভাবে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা পিছিয়ে পড়ছে; বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ খাতে উন্নয়নের প্রত্যাশা রয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, “তারেক রহমানের আগমন ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। জনসভায় মানুষের ঢল নামবে বলে আমরা আশাবাদী। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সামগ্রিক উন্নয়নই হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার ইতিহাস পেছনে ফেলে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ এখন তাকিয়ে আছে আগামীর দিকে। তারেক রহমানের এই সফর রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এটি উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




















