প্রতিনিধি ১৪ মে ২০২৬ , ১২:৩৬:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন আরাঘচি। পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোয় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচিকে আন্তরিক স্বাগতম।
প্রতীকী বার্তা বহনকারী `মিনাব১৬৮‘ নামের একটি বিমানে করে ভারতে পৌঁছান আরাঘচি। যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৬৮ কিশোরীর স্মরণে বিমানের এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও ইরানের দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালী। এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত অবশিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিকস বৈঠকে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে সফররত ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, `ব্রিকসের মতো প্ল্যাটফর্মে ইরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা জোরদার, ন্যায়ভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আরও ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কৌশলগত পদক্ষেপ।‘
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, `নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক গ্লোবাল সাউথের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার, স্বাধীন বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আর্থিক ও ব্যাংকিং সম্পর্ক জোরদার এবং বৈষম্যমূলক একতরফা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে।‘
এ সময় গরিবাবাদি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করে বলেন, `যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপমূলক পদক্ষেপ এবং এর অবৈধ ও উন্নয়নবিরোধী প্রভাবের বিরোধিতা করা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও জাতিগুলোর উন্নয়নের অধিকারের পক্ষে অবস্থানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।‘








