ফেনী প্রতিনিধি: ১৭ জুন ২০২৬ , ৪:৩২:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীতীরবর্তী জনপদ সুরক্ষায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর বিভিন্ন নদীতে ব্যাপক পলি জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং নদী রক্ষা বাঁধগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টি কিংবা উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলেই বারবার বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছিল। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ, ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো সংস্কার এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০৩১ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৫ টন কৃষিপণ্য উৎপাদন সুরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি মৎস্য ও পোলট্রি খাতও উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, “২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি নদী পুনঃখনন ও এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ করা হবে। এতে বন্যা ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্ভব হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এ ধরনের সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




















