আন্তর্জাতিক

অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

  প্রতিনিধি ১৮ জুন ২০২৬ , ১:০৮:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারিপরোয়ানার ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। ভারতীয়

পাঁচ বছর আগে বিজেপি নেতা আকাশ বিজয়বর্গীয়ের দায়ের করা একটি মানহানির মামলায় ভোপালের বিশেষ আদালতের জারি করা পরোয়ানার বিরুদ্ধে অভিষেকের আবেদনের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আর বহাল রাখেনি।

সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগারওয়ালের একক বেঞ্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং গত নভেম্বরে জারি করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতের জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের পথ আবারও উন্মুক্ত হলো।

আদালতের এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের শীর্ষ নেতার আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় একাধিকবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন অভিষেক।

মামলার সূত্রপাত ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে। ডায়মন্ড হারবারে একটি রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের ছেলে এবং তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয়কে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির পক্ষ থেকে তাকে বারবার ‘ভাইপো’ বলে সম্বোধন করার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক সে সময় বলেন, ‘যারা আমাকে ভাইপো বলে ডাকে, তাদের সাহস থাকলে আমার নাম ধরে ডাকুক।’ একই বক্তব্যে তিনি কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে ‘বহিরাগত’, দিলীপ ঘোষকে ‘গুন্ডা-মাফিয়া’ এবং আকাশ বিজয়বর্গীয়কে ‘গুন্ডা’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন।’

এর পর ২০২১ সালে আকাশ বিজয়বর্গীয় ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানিতে একাধিকবার অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে বিশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে আবেদন করলে আদালত সাময়িকভাবে ওই পরোয়ানার ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। তবে বুধবার মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় এবং মামলার পক্ষে সওয়াল না হওয়ায় আদালত সেই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ আর বাড়ায়নি।

এর ফলে বিশেষ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content