প্রতিনিধি ১৮ জুন ২০২৬ , ২:১৮:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে মেমোরি চিপের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় নিজেদের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্য বৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব নয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুক বলেন, ‘আমরা সরবরাহকারীদের চাপিয়ে দেওয়া মূল্যবৃদ্ধি যতটা সম্ভব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং গ্রাহকদের ওপর প্রভাব কম রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি এখন আর টেকসই নয়।’
তবে তিনি কবে থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বা অ্যাপলের কোন কোন পণ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। সেপ্টেম্বরে উন্মোচনের সম্ভাব্য আইফোন ১৮ সিরিজের দামও বাড়বে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মেমোরি চিপ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদা বাড়ায় এসব চিপের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, ফলে দামও দ্রুত বেড়েছে।
টিম কুক বলেন, ‘ভোক্তা পণ্যের জন্য মেমোরির দাম এবং সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসা প্রয়োজন। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের তুলনায় র্যামের দাম ইতোমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। সাধারণত কম্পিউটারের সবচেয়ে সস্তা উপাদানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এর মূল্যবৃদ্ধি প্রযুক্তি শিল্পে বড় প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের প্রভাবও চিপ উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস হিলিয়ামের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ বাড়তে পারে, যা হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
ওমডিয়ার স্মার্টফোন বাজার বিশ্লেষক চিউ লে জুয়ান বিবিসিকে বলেন, নতুন এআই ফিচার সমর্থনের জন্য উন্নত হার্ডওয়্যার যুক্ত করায় অ্যাপলের নতুন আইফোনগুলোর দাম আইফোন ১৭ সিরিজের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ স্মার্টফোন নির্মাতা ইতোমধ্যে দাম বাড়িয়েছে, বিভিন্ন ছাড় ও প্রচার কমিয়েছে অথবা কিছু ক্ষেত্রে স্পেসিফিকেশন কমিয়ে লাভজনকতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এটি সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং নতুন বাস্তবতা।’
শুধু অ্যাপল নয়, অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও চিপ শিল্পে বাড়তি চাপের কথা জানিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি সম্প্রতি মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপল, এনভিডিয়া ও এএমডির মতো কোম্পানির জন্য উন্নত চিপ তৈরি করে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংও চলতি বছরের শুরুতে সতর্ক করে জানিয়েছিল, মেমোরি চিপের ঘাটতি ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আরও বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এপ্রিলে সনি যুক্তরাজ্যে প্লেস্টেশন ৫ কনসোলের দাম ৯০ পাউন্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ ডলার বৃদ্ধি করে। পরে নিনটেনডো বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সেপ্টেম্বরে সুইচ ২-এর মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
অ্যাপলের ব্যবসা অবশ্য এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাজারে থাকা আইফোন ১৭ সিরিজ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অ্যাপলের ডিভাইস বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে চীনের শক্তিশালী চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে চলতি বছর অ্যাপল তাদের ম্যাক মিনি কম্পিউটারের এন্ট্রি-লেভেল সংস্করণ বাজার থেকে সরিয়ে দেয়, ফলে পণ্যটির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২০০ ডলার বেড়ে যায়।




















