মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২৪ জুন ২০২৬ , ১২:৪৭:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক এক ব্যক্তিকে নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ডিবি পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগে পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচ কনস্টেবলকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিকেলে উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবনগর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসআই মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া, মো. আলমগীর কবির এবং সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়া অংশ নেন।
অভিযানকালে দেবনগর গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০)-কে আটক করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে ডিবি পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। পরে স্থানীয় কিছু লোক ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে জুয়েল মিয়া হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান।
ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মামুন মিয়া বলেন, ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্ত হন। এ ভুল বোঝাবুঝির কারণেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর জুয়েল মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনার দুই দিন পর, ১৭ জুন প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ডিবির এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম পূর্বেই অন্যত্র বদলি হয়েছেন। আর কনস্টেবল সোহাগ মিয়া তার অনুমতি ছাড়া অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে ওই দিন তাকে অনুপস্থিত হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ প্রশাসন নেবে না।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ এ কে এম শামীম হাসান বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে ডিবির কয়েকজন সদস্যকে প্রত্যাহারের পেছনে প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
এ ঘটনায় মাধবপুর ও হবিগঞ্জ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




















