খেলাধুলা

টানা সাত ম্যাচে গোল করে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মহানায়ক মেসি

  প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২৬ , ৮:৩৮:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ

মাঠের ভেতর লিওনেল মেসি যেন রেকর্ড এবং ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য নাম। একের পর এক পর্বতসমান অর্জনে এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি যেন আর্জেন্টিনার সমার্থক হয়ে উঠেছেন, যেখানে দলের বাকিরা অনেকটা পার্শ্বচরিত্রে ঢাকা পড়ছেন। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার করা পাঁচটি গোলের সবকটিই ছিল মেসির ব্যক্তিগত অবদান।

রোববার সকালে ডালাসে জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি একাদশে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। তিনি শুরুর একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনে দলের অন্য সদস্যদের নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কোচ স্কালোনির সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জিওভান্নি লো সেলসো ও লাওতারো মার্তিনেজ। ম্যাচের ১৯ মিনিটে লো সেলসো একটি দর্শনীয় ফ্রিকিক থেকে দলের প্রথম গোলটি করেন। এরপর ৩১ মিনিটে ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা, যা থেকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি আদায় করে নেন লাওতারো মার্তিনেজ।

বেঞ্চে বসে সতীর্থদের গোল উপভোগ করা মেসি ৬০ মিনিটে মাঠে নামতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে এই মহানায়ককে বরণ করে নেয়। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে জর্ডানের মুসা আল-তামারি ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। তবে ম্যাচের ৮০ মিনিটে মেসি নিজের জাদুকরী ফ্রিকিক থেকে গোল করে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। ২৫ গজ দূর থেকে জর্ডানের গোলকিপার ভেবেছিলেন মেসি মানবদেয়ালের ওপর দিয়ে শট নেবেন, কিন্তু জাদুকর মেসি দেওয়ালের পাশ ঘেঁষে রংধনুর মতো বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলটির মাধ্যমে প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন মেসি। জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করল। বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৯-এ নিয়ে যাওয়া মেসি এবং তার দল শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপের বিস্ময় হিসেবে পরিচিত দল কেপ ভার্দের।

পুরো ম্যাচ খেললে মেসির গোলের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হতে পারত, কিন্তু দলের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নিজেই সেটি চাননি। ম্যাচ শেষে কোচ স্কালোনি সেই পেছনের গল্প প্রকাশ করে বলেন, মেসি চাইলেই পুরো ৯০ মিনিট খেলে গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু লিও চেয়েছিলেন সতীর্থরা যেন খেলার সুযোগ পায় এবং পরের ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এটাই লিওর মহত্ত্ব; সাধারণ মানুষ যেসব রেকর্ড নিয়ে মাতামাতি করে, সেসবে তিনি খুব একটা তোয়াক্কা করেন না। নকআউটে ফেভারিট হিসেবে জায়গা করে নিলেও শেষ বত্রিশের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে সর্বোচ্চ সমীহ করছেন স্কালোনি। তিনি জানান, কেপ ভার্দে দারুণ একটি দল, যারা স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে, তাই আমাদের তাদের বিপক্ষে ভীষণ সতর্ক থাকতে হবে।

আরও খবর

Sponsered content