আন্তর্জাতিক

প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগে সমালোচনার মুখে কেমব্রিজ অধ্যাপকের পদত্যাগ

  প্রতিনিধি ৬ আগস্ট ২০২৬ , ১:৪৮:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

মেধাস্বত্ব চুরির (প্লেজিয়ারিজম) অভিযোগ এবং একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পদত্যাগ করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আর্ডে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আলোচনায় আসেন আর্ডে। সম্প্রতি তার পিএইচডি গবেষণাপত্রের একাধিক অংশে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি তার একাডেমিক যোগ্যতা ও সম্মানসূচক নিয়োগসংক্রান্ত কিছু তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

বুধবার কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, নতুন প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আর্ডের একাডেমিক যোগ্যতা এবং তার সম্মানসূচক নিয়োগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে একাডেমিক অসদাচরণসংক্রান্ত আরও কয়েকটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা নীতিমালা অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জেসাস কলেজও আলাদাভাবে নিজস্ব তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

তবে কী নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে অনলাইনে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে আর্ডে বলেন, চলমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ ছিল পদত্যাগ। তবে তিনি দাবি করেন, তার এই সিদ্ধান্তকে অভিযোগের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি লেখেন, ‘এটি এমন একজন মানুষের সিদ্ধান্ত, যিনি এতটাই কষ্ট সহ্য করেছেন যে এর বেশি আর সহ্য করা সম্ভব নয়।’

আর্ডে কেমব্রিজের ‘সোসিওলজি অব এডুকেশন’-এর অধ্যাপক এবং জেসাস কলেজের ফেলো পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

এর আগে গত জুনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে অভিযোগগুলোকে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ছিল, তার থিসিস ও গবেষণা নিবন্ধে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জার্নাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে খারিজ করেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষক এবং নিজেকে ‘রেস রিয়ালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া নাথান কফনাস অভিযোগ করেছেন, আর্ডের পিএইচডি থিসিসের একাধিক অংশ অন্য গবেষণা থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে। কফনাসের সঙ্গে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামূলক সম্পৃক্ততা ২০২৪ সালে বর্ণবাদসংক্রান্ত অভিযোগের পর শেষ হয়ে যায়।

আর্ডের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার একসময় ৩৫ দিনে ৩০টি ম্যারাথন সম্পন্ন করা এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অর্থ সংগ্রহের দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গত শনিবার দ্য টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্ডে স্বীকার করেন, একাডেমিক জীবনে কিছু ভুল হয়েছিল। তবে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যাবাদী, কাল্পনিক চরিত্র এবং একাডেমিক প্রতারক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, তাকে পদচ্যুত করার এই প্রচারণার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য কাজ করছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডানপন্থী কয়েকটি সংবাদমাধ্যম আর্ডেকে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) নীতির প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং প্রভাবশালী কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদরাও রয়েছেন।

এদিকে, প্রকাশনা সংস্থা সাইমন অ্যান্ড শুস্টার জানিয়েছে, চলতি মাসে আর্ডের স্মৃতিকথা গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস প্রকাশিত হবে। সংস্থাটি বলেছে, বইটি নিয়ে কোনো ধরনের প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ ওঠেনি।

অটিজমে আক্রান্ত আর্ডে এর আগে জানিয়েছেন, তিনি ১১ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারতেন না এবং ১৮ বছর বয়সে পড়তে ও লিখতে শেখেন। ৩৭ বছর বয়সে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হন।

বিবৃতির শেষাংশে আর্ডে বলেন, ‘এটাই আমার কাজের শেষ নয়। এখন আমার সুস্থ হয়ে ওঠা এবং নিজের মধ্যে ফিরে আসার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, ‘আমি আবারও ফিরে আসব।’

আরও খবর

Sponsered content