প্রতিনিধি ২০ আগস্ট ২০২৬ , ১১:২১:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তারা দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে ব্রিটেনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
‘পিপল’ ম্যাগাজিন ও ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর বয়সী আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সী লিলিবেট সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যে স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে। তবে হ্যারি-মেগান রাজপরিবারের কোনো বাসভবনে থাকবেন না এবং তারা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন না।
হ্যারি ও মেগানের মুখপাত্র কিংবা বাকিংহাম প্যালেস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন সঠিক বলে নিশ্চিত করেছে।
২০১৮ সালে উইন্ডসর ক্যাসেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাবেক অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করেন প্রিন্স হ্যারি। মেগানের মা কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তার রাজপরিবারে অন্তর্ভুক্তি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক করে তুলবে বলে তখন আশা করা হয়েছিল।
কিন্তু বিয়ের পরপরই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ২০২০ সালের মার্চে হ্যারি ও মেগান ঘোষণা দেন, তারা রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন।
পরে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার কাছে মন্টেসিটোর বিলাসবহুল এলাকায় বসতি গড়েন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ কক্ষের তাদের বাড়িটি ২০২০ সালে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলারে কেনা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর রাজপরিবার ও ব্রিটিশ রাজতন্ত্র নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন হ্যারি ও মেগান। টেলিভিশন সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র এবং হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’-এ তারা রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় তুলে ধরেন।
২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মেগান দাবি করেছিলেন, রাজপরিবারের এক সদস্য তাদের ছেলে আর্চির গায়ের রং কতটা কালো হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তবে হ্যারির বড় ভাই ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিরুদ্ধে এমন বর্ণবাদী অভিযোগ অস্বীকার করেন।
হ্যারি তার বাবা রাজা তৃতীয় চার্লস ও ভাই উইলিয়ামকে নিয়েও আত্মজীবনীতে বেশ কিছু তীব্র মন্তব্য করেন। এর ফলে ভাইদের সম্পর্ক আরও অবনতি হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে হ্যারির সঙ্গে রাজপরিবারের সম্পর্কের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে তার নিরাপত্তা নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাজ্যে তার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিবর্তন করায় ক্ষুব্ধ হ্যারি বলেছিলেন, স্বয়ংক্রিয় পুলিশি নিরাপত্তা না থাকায় তিনি সন্তানদের নিয়ে ব্রিটেনে আসতে নিরাপদ বোধ করেন না।
তবে গত সেপ্টেম্বরে বাবা-ছেলের সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রায় ২০ মাস পর প্রথমবারের মতো হ্যারি ও রাজা চার্লস সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেখা করেন। ২০২৪ সালে চার্লসের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর তার চিকিৎসা চলছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে রাজা জানিয়েছিলেন, চিকিৎসায় তিনি ‘অসাধারণভাবে ভালো’ সাড়া দিয়েছেন এবং চিকিৎসার মাত্রা কমিয়ে আনা হচ্ছে।
গত মাসে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানরা যুক্তরাজ্য সফর করেন। ওই সফরে রাজা চার্লস ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করেন।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যারি-মেগানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হলেও তাদের দীর্ঘমেয়াদি ব্রিটেনে ফেরার পরিকল্পনার কথা রাজা চার্লস রোববারের আগে জানতে পারেননি।
হ্যারি ও তার ভাই উইলিয়ামের সম্পর্ক অবশ্য এখনো স্বাভাবিক হয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় হ্যারি-মেগান একাধিক বাণিজ্যিক ও গণমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগে যুক্ত হন। তারা স্পটিফাইয়ের সঙ্গে পডকাস্ট এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান তৈরির জন্য কোটি কোটি ডলারের চুক্তি করেন। মেগানের একটি লাইফস্টাইল অনুষ্ঠানও নেটফ্লিক্সে প্রচারিত হয়।
তবে এসব উদ্যোগের সাফল্য ছিল মিশ্র। হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ বেস্টসেলার হলেও তাদের স্পটিফাই চুক্তি শেষ হয়ে যায় এবং মেগানের নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠান তৃতীয় মৌসুমের জন্য নবায়ন করা হয়নি।
হলিউডভিত্তিক প্রকাশনা ‘ডেডলাইন’-এর নির্বাহী সম্পাদক ডমিনিক প্যাটেনের মতে, হ্যারি ও মেগান যে ধরনের ‘সুপারস্টার’ মর্যাদা আশা করেছিলেন, তা পুরোপুরি অর্জন করতে পারেননি। তবে হলিউডের অসংখ্য তারকার ভিড়ের মধ্যেও তারা নিজেদের গল্প নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।















