সারাদেশ

ভিসা জটিলতায় জাহাজে উঠতে পারছেন না শত শত নাবিক, চাকরি যাচ্ছে ভারত-ফিলিপাইনের হাতে!

  মোহাম্মদ হোসাইন: ৪ অক্টোবর ২০২৬ , ১০:০৯:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও সুয়েজ ক্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম হাবে বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা, ট্রানজিট, ক্রু-চেঞ্জ, শিপ-জয়েনিং ও সাইন-অফ সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনে সরকারের জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ চেয়েছেন মেরিটাইম খাতের প্রতিনিধিরা।

শনিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ে কোনো বাংলাদেশি নাবিক জাহাজে যোগ দিতে না পারলে জাহাজ মালিককে বিকল্প নাবিক নিয়োগ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেই পদে অন্য দেশের নাগরিক নিয়োগ পাওয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা অন্য দেশের শ্রমবাজারে চলে যাচ্ছে।

বক্তারা জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্চেন্ট মেরিনার, মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশি মেরিনাররা বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি মেরিনার কর্মরত রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ, ট্রানজিট ও ক্রু-চেঞ্জ অনুমোদন, মিশরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পোর্ট সাঈদ ও সুয়েজ ক্যানেল এলাকায় সাইন-অন ও সাইন-অফের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় বাংলাদেশি নাবিকরা সমস্যায় পড়ছেন।

বিশেষ করে সময়মতো ভিসা অনুমোদন না পাওয়ায় নিশ্চিত নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও শত শত নাবিক নির্ধারিত সময়ে জাহাজে যোগ দিতে পারছেন না বলে দাবি করেন বক্তারা। এর ফলে বাংলাদেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, বাংলাদেশি ক্রু, মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের পরিবর্তে ভারত ও ফিলিপাইনের নাবিকরা এসব চাকরিতে সুযোগ পাচ্ছেন।

সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম দেশগুলোতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে মেরিটাইম কাউন্সিলর নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এই কাউন্সিলররা নাবিকদের জরুরি ভিসা সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, ভিসা বাতিল বা বিলম্বের কারণ চিহ্নিতকরণ, আটকে পড়া নাবিকদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং বিদেশি কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো দেশের অভিবাসন নীতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে চাই না। আমরা চাই পারস্পরিক সহযোগিতা, কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান এবং বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ভিসা ও ক্রু পরিবর্তন ব্যবস্থা।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেহকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের চেয়ারম্যান চিফ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা। উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, রিলায়েন্স শিপিং সার্ভিসের সিইও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবুল খায়ের, ইউনিকর্ন শিপিং সার্ভিসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন সৈয়দ আমির হোসেন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেহ, সাংগঠনিক সম্পাদক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মইন আহমেদ এবং এরিসটোক্রাট মার্চেন্ট মেরিন সার্ভিস লিমিটেডের ডিজিএম সুমন সিকদার।

আরও খবর

Sponsered content