ধর্ম

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলত

  প্রতিনিধি ২ জুলাই ২০২৬ , ৭:৩৭:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা এবং নিজেকে নিরাপদ রাখা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরি। প্রায়শই মানুষ শয়তানের ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত হয়, যা গোনাহের পাল্লা ভারী করে। শয়তানের এই কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.)-কে স্বয়ং শয়তান একটি বিশেষ আয়াতের সন্ধান দিয়েছিল, যা হলো সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত বা আয়াতুল কুরসি। নবী করিম (সা.) এই আয়াতকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং নিয়মিত পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। সকালে এটি পাঠ করলে সারাদিন এবং সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

সহিহ বুখারি হাদিস গ্রন্থে (হাদিস: ২৩১১) বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু হুরায়রা (রা.)-কে রমজানের জাকাত বা সদকাতুল ফিতরের খেজুর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। রাতে এক আগন্তুক এসে খেজুর চুরি করতে চাইলে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ধরে ফেলেন এবং আল্লাহর রাসুলের কাছে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। আগন্তুক অভাব ও পরিবারের কষ্টের কথা বলে ক্ষমা চাইলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। নবী (সা.) পরদিন সকালে ঘটনার কথা শুনে জানান যে, সে মিথ্যা বলেছে এবং আবারও আসবে। এভাবে তিন রাত অতিবাহিত হলে এবং প্রতিবারই আগন্তুক একই অজুহাতে ক্ষমা চাইলে আবু হুরায়রা (রা.) শেষবার তাকে আটকের সময় কঠোর হন। তখন সেই আগন্তুক জানায়, সে তাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেবে যা আল্লাহ তার উপকারে আনবেন। সে পরামর্শ দেয়, রাতে বিছানায় যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করতে। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত থাকবেন এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান কাছে ভিড়বে না।

সকালে আবু হুরায়রা (রা.) বিষয়টি নবী (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, সে তোমাকে সত্যই বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যুক। এরপর নবী (সা.) আবু হুরায়রা (রা.)-কে জানান যে, তিনি টানা তিন রাত শয়তানের সাথেই কথা বলেছেন। আয়াতুল কুরসি হলো: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম, লা তাখুজুহু সিনাতুও ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস-সামা ওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইন্দাহু ইল্লা বি ইজনিহ, ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বি শাইইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ। ওয়া সিয়া কুরসিইহুস্ সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়ালা ইয়াউদুহ হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিইয়ুল আজিম।

এই আয়াতের অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিন যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

আরও খবর

Sponsered content