ধর্ম

ইনহেলার ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যায়?

  প্রতিনিধি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ২:৩০:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান মাস এলেই শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানিতে ভোগা অনেক মানুষের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা দেয়—রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে কি, আর এতে রোজা ভেঙে যাবে কি না। দ্বিধা ও ভুল ধারণার কারণে কেউ কেউ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ইনহেলার ব্যবহার না করে কষ্ট সহ্য করেন, যা কখনো কখনো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রোজা ভঙ্গ হওয়ার বিষয়ে ইসলামি ফিকহে মূলত তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে—খাদ্য গ্রহণ, পানীয় গ্রহণ এবং শরীরে শক্তি জোগায় এমন কিছুর প্রবেশ। এছাড়া ইচ্ছাকৃত দাম্পত্য সম্পর্কও রোজা ভঙ্গের কারণ হিসেবে বিবেচিত।

পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন ওঠে, ইনহেলার কি খাদ্য বা পানীয়ের মতো, কিংবা এটি শরীরে পুষ্টি বা শক্তি সরবরাহ করে কি না।

সমসাময়িক অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনহেলার কোনো খাদ্য বা পানীয় নয়। এটি পাকস্থলীতে না গিয়ে সরাসরি শ্বাসনালিতে পৌঁছে কাজ করে। এতে শরীরের জন্য কোনো পুষ্টি বা শক্তি নেই। এ যুক্তিতে বহু আলেম মনে করেন, ইনহেলার ব্যবহারে রোজা ভঙ্গ হয় না। বিশেষ করে যাদের জন্য এটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের অনুমতি ইসলামের সহজতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে কিছু আলেমের মতে, মুখ দিয়ে কিছু প্রবেশ করার কারণে ইনহেলার ব্যবহারে রোজা ভেঙে যেতে পারে। যদিও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরিয়তের উদ্দেশের আলোকে অনেক গবেষক এ মতকে কম গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন।

কুরআনে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ছাড়ের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—অসুস্থ ব্যক্তি পরে রোজা কাজা করতে পারবেন। অর্থাৎ অসুস্থতার কারণে কষ্টে পড়ে ইবাদত পালন করা ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।

যাদের ইনহেলার ছাড়া স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তাদের ক্ষেত্রে জীবন রক্ষা অগ্রাধিকার পায়। প্রয়োজন হলে রোজা না রেখে পরে কাজা করা বা ফিদইয়া দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, ইনহেলার মূলত স্থানীয়ভাবে কাজ করা একটি ওষুধ, যা খাবারের মতো হজম হয়ে শরীরে শক্তি জোগায় না। বরং ইনহেলার ব্যবহার বন্ধ রাখলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রয়োজনে রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার করা বা পরে কাজা রোজা আদায় করা—দুটিই ইসলামের বিধানের মধ্যে পড়ে।

 

আরও খবর

Sponsered content