প্রচ্ছদ

সেই দুঃস্বপ্ন আজও তাড়া করে ফেরে ফ্লিনটফকে

  স্পোর্টস ডেস্ক ২৩ এপ্রিল ২০২৫ , ১০:৫৯:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ তার ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার পর নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন সম্প্রতি। ২০২২ সালে ‘টপ গিয়ার’ নামের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের শুটিংয়ে ভয়ানক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দীর্ঘ সময় চুপ থাকার পর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার।

ফ্লিনটফ বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথমবার জনসম্মুখে আসতে তার বেশ কষ্ট হয়েছিল। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনটি ছিল তার জন্য চরম দুশ্চিন্তার।

তিনি বলেন, ‘কার্ডিফে সেই দিন, আমার হোটেল রুম থেকে বের হতে ১০ বার চেষ্টা লেগেছিল। আমি রুম থেকে বের হতে পারছিলাম না। আমি খুব চিন্তিত আর উদ্বিগ্ন ছিলাম। শেষ পর্যন্ত নেমে নাস্তার টেবিলে বসলাম, রিস টপলি আর জস বাটলারের সঙ্গে কথা বললাম।’

‘আমার বেসবল গ্লাভস আনতে আবার রুমে গিয়েছিলাম। লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন শুনি কেউ আসছে। বুঝে গিয়েছিলাম, ওটা বেন স্টোকস হবে। তখনও তাকে তেমন চিনতাম না। এখন দারুণ একটা সম্পর্ক হয়েছে আমাদের। কিন্তু তখন ওই লিফটে তার সঙ্গে দাঁড়ানো নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ড্রেসিং রুমে যেতেই জো রুট এসে আমাকে শুভেচ্ছা জানাল। ও দারুণ একজন মানুষ। সবাই আমাকে খুব স্বাগত জানিয়েছিল। ধীরে ধীরে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। ব্যালকনিতে বসে ছবি তুলেছি। এমনকি সাংবাদিকরাও আমার ব্যাপারে সদয় ছিলেন। একটা দুর্ঘটনা কত কিছু বদলে দিতে পারে, ভাবা যায় না।’

টপ গিয়ারের শুটিং চলাকালে ফ্লিনটফ একটি ‘মরগান সুপার থ্রি’ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিন চাকার এই ওপেন স্পোর্টস কারটি প্রায় ১৩০ মাইল বেগে ছুটতে পারে। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় তার মাথায় হেলমেট ছিল না। গাড়িটি উল্টে গিয়ে ট্র্যাকের বাইরে ছিটকে পড়ে। তার মুখে মারাত্মক জখম হয়, আর পাঁজরের কয়েকটি হাড় ভেঙে যায়।

এই দুর্ঘটনার শারীরিক ও মানসিক প্রভাব এখনও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। তিনি বলেন, ‘এটা সবসময় থাকবে। তবে এক অদ্ভুতভাবে এখন আমি এটা মেনে নিয়েছি। এর সঙ্গে আর যুদ্ধ করছি না। রাতে এখনও ফ্ল্যাশব্যাক আসে, উদ্বেগ তৈরি হয়। কিন্তু আমি জানি এটা হচ্ছে এবং আমি তা মেনে নিচ্ছি।’

২০১০ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ফ্লিনটফ। ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে খেলেছেন ৭৯টি টেস্ট। দুর্ঘটনার পর ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলে দায়িত্ব নেন তিনি। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এমআই

আরও খবর

Sponsered content