ভুবন কুমার শীল, কুড়িগ্রাম ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৫৮:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের উত্তরের সীমান্তঘেঁষা ফুলবাড়ী উপজেলা-তে এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি এখানকার মরিচ চাষিরা।
সরেজমিনে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গজেরকুটি, খলিশাকোঠাল, বালাতাড়ি, কুরুষাফেরুষা জাগিরটারী, গোরকমন্ডল ও চর গোরকমন্ডলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—দুচোখ যেদিকে যায় শুধু সবুজ মরিচ আর মরিচ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহে যেন কৃষকের স্বপ্ন পূরণের ইঙ্গিত মিলছে। মরিচের পাশাপাশি নানা ধরনের রবিশস্য চাষ করেই এখানকার অধিকাংশ কৃষক জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। যাদের নিজস্ব জমি নেই, তারাও অন্যের জমি লিজ বা বর্গা নিয়ে মরিচসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করছেন।
চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম থাকায় চাষিরা ক্ষেতে পরিচর্যা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ক্ষেত থেকে মরিচ তুলছেন, কেউ আবার বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।
গজেরকুটি এলাকার মরিচ চাষি আফজাল হোসেন এক বিঘা, একই এলাকার তাহের আলী ছয় বিঘা এবং মজিবর রহমান পাঁচ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। তারা জানান, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন খুব ভালো হয়েছে। পাশাপাশি চাহিদা বেশি থাকায় খেতেই মনপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে মরিচ বিক্রি করছেন।
আফজাল হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে খরচ হয় আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। উৎপাদন হয় ৬৫ থেকে ৭০ মন পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, এক মাস আগেই স্থানীয় পাইকারদের কাছে একটি খেত ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। কেউ কেউ ৬৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকাতেও খেত বিক্রি করছেন। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন।
অন্যদিকে মজিবর রহমান জানান, যারা খেত আগাম বিক্রি না করে নারী শ্রমিক দিয়ে নিজে মরিচ তুলে নিজ এলাকা ও পাশের জেলা লালমনিরহাট-এর বড়বাড়ী বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন, তারা মনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পাচ্ছেন। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, এমনকি এক লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।
স্থানীয় পাইকার দুলাল মিয়া ও মুসাব্বের আলী জানান, তারা কৃষকদের কাছ থেকে মনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় মরিচ কিনে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বড়বাড়ী বাজারে বিক্রি করছেন। এতে প্রতিমন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কোনো কোনো দিন ৮০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মরিচের চাহিদা ভালো থাকায় চাষিদের পাশাপাশি তারাও লাভবান হচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে মরিচে তেমন কোনো রোগবালাইয়ের আক্রমণ নেই। ফলন হয়েছে বাম্পার এবং বাজারদর ভালো থাকায় চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।





















