সারাদেশ

গাজীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

  প্রতিনিধি ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:১২:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা ফরিদ সরকারকে (৩৫) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গভীর রাত পৌনে চারটার দিকে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের কেবিএম ব্রিক্স নামক ইট ভাটার ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ফরিদ সরকার নারায়নপুর গ্রামের মো. জামাল সরকারের ছেলে। এ ছাড়া তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করেছে। আটকরা হলেন ম্যানেজার অজিত সরকার(৪৫), শ্রমিক মিনারুল (২০),নাহিদ হাসান (১৮), উসমান (২১), জাকির হোমেন (১৮), আগুন মিস্ত্রি শফিকুল ইসলাম (৪০)।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফরিদ কেবিএম ব্রিক্স নামক ইটের ভাটায় মাটি সরবরাহের ব্যবসা করতেন। মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে তিনি খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় কারও ফোন পেয়ে ফরিদ বাড়ি থেকে বের হন। রাত চারটার দিকে ফরিদ দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে খবর পান তারা। ওই ইটভাটায় গিয়ে দেখেন কারা যেনো ফরিদকে এলোপাথারী কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে ফেলে গেছে। তারা তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার খোরশেদ আলম রফিক বলেন, ‘ইটভাটার ম্যানেজার অজিত সরকার জানান ফরিদকে কারা যেন কুপিয়ে আহত করে ফেলে গেছে। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি তার পরিবারকে জানাই।’

ইটভাটার শ্রমিক জাকির হোসেন ও মিনারুল বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে ফরিদ ও অপর একজন ব্যক্তি ইটভাটায় এসে আগুন পোহাতে থাকেন। রাত তিনটার দিকে আরও তিন-চারজন ব্যক্তি রাম দা নিয়ে আসে; আমরা প্রাণ ভয়ে ঘরে দরজাবন্ধ করে থাকি। পরে ফরিদের ডাক চিৎকার শুনতে পাই। হামলাকারীদের আমরা কেউ চিনতে পারিনি বা এর আগে কখনো দেখিনি।’

নিহতের স্ত্রী আছিয়া খাতুন বলেন, ‘আমাকে যারা বিধবা করেছে। সন্তানদের এতিম করেছে। স্বামীকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।’

নিহতের বাবা জামাল সরকার বলেন, ‘রাত দশটার দিকে ফরিদ বাড়িতে ভাত খায়। এ সময় কে যেনো ফরিদকে ফোন করে। ফোন পেয়ে ফরিদ তাৎক্ষণিক বাড়ি থেকে বের হয়। রাত চারটার দিকে সবুজ মেম্বার জানান ফরিদ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। খবর পেয়ে আমি লতিফপুরের কেবিএম ব্রিক্স নামক ইট ভাটায় এসে আমার ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে গড়াগড়ি করতে দেখি। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ডাক্তাররা আমার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করে।’

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক প্রধান বলেন, ‘রাতে ফরিদকে কুপিয়ে আহত করার খবর পেয়ে পুলিশকে তাৎক্ষণিক যাই। হত্যাকাণ্ড কারা, কেন ঘটিয়েছে তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ বলেন, ‘রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘাতকদের বিষয় বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

আরও খবর

Sponsered content