প্রচ্ছদ

চীনের সেরা গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ডে রাণীনগরের তারিকুলের সাফল্য: গুরু-শিষ্যের যুগল জয়, একসঙ্গে পেলেন শ্রেষ্ঠ ছাত্র ও শিক্ষক সম্মাননা

  প্রতিনিধি ১ জুলাই ২০২৫ , ৫:২২:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি:
চীনের বিখ্যাত বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেরা গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন নওগাঁর রাণীনগরের সন্তান মো. তারিকুল ইসলাম (তাজ)। এ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অসামান্য গবেষণা ও একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য তিনি এ সম্মাননায় ভূষিত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসে গত সোমবার (স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে) আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তারিকুল ইসলামের হাতে অ্যাওয়ার্ডটি তুলে দেন বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ঝাও ওয়েই শেং। এসময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উপ-পরিচালক প্রফেসর ঝাং ঝিহুই, আন্তর্জাতিক স্কুলের উপ-ডিন প্রফেসর উ সিয়াওজুন, এবং তারিকুলের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর সু ইউয়ানমিংসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়—তারিকুল ইসলাম সেরা গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের কারণে তার তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর সু ইউয়ান মিং-ও ‘সেরা শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এই যুগল অর্জনে এক অনন্য গুরু-শিষ্য সম্পর্কের উদাহরণ গড়ে উঠেছে।

এর আগে তারিকুল ইসলাম হুনান প্রদেশের চাংশা ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক সম্পন্ন করেন, সেখানেও তিনি সেরা গ্র্যাজুয়েট নির্বাচিত হন। তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল—বিমানের নকশা, ড্রোন প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক উল্লম্ব অবতরণ যান (eVTOL), এরোডাইনামিক্স ও মেশিন লার্নিং।

বর্তমানে তিনি বেইজিং-এর একটি শীর্ষস্থানীয় এ্যারোস্পেস কোম্পানিতে এয়ারক্রাফট অ্যারোডাইনামিক ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই অর্জন আমি উৎসর্গ করছি আমার গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর সু ইউয়ান মিং, আমার বাবা-মা, স্ত্রী এবং দেশের সিনিয়র ভাই ও বন্ধুদের প্রতি।”

মেধাবী তারিকুলের পথচলা:
১৯৯৮ সালের ১২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন তারিকুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার বেলোবাড়ি গ্রামে। তার বাবা মো. বুলেট হোসেন রাণীনগর আল-আমিন দাখিল সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মা মোছা: সুলতানা মোফতারুন বেগমও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত।

বেলোবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করে রাণীনগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ২০১৫ সালে এসএসসি ও ২০১৭ সালে ঢাকার সাভার ল্যাবরেটরি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। সেখানে তিনি বিভিন্নবার সম্মাননা ও পুরস্কারও অর্জন করেন।

পরবর্তীতে চীনের সরকারী স্কলারশিপ পেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য হুনান প্রদেশে পাড়ি জমান এবং সেখানে অভূতপূর্ব সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।

এলাকাবাসীর গর্ব ও শুভকামনা: 
তারিকুল ইসলাম (তাজ)-এর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের শিক্ষাঙ্গন এবং এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মা-বাবা, পরিবার-পরিজন, শিক্ষক ও এলাকাবাসী মহান আল্লাহ তাআলার কাছে তার সফল কর্মজীবনের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

 

আরও খবর

Sponsered content