সারাদেশ

জোয়ারে ভেসে গেল সাঁকো, আশাশুনিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:১২:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ


সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সাঁকো জোয়ারের তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া ও বুধহাটা ইউনিয়নের কুন্দুড়িয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত মরিচ্চাপ নদীর ওপর পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ কংক্রিট ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত ওই ব্রিজটি আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং বুধহাটা, পাইথালী, ব্যাংদহা, গাজীরমাঠ ও কামালকাটি হাট-বাজারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল।

তবে প্রায় ৩-৪ বছর আগে নদী খননের ফলে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। পরে সাময়িকভাবে চলাচল সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাশে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন মানুষ হেঁটে চলাচল, সাইকেল ও মোটরসাইকেল পারাপার করত।

কিন্তু গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নদীর পানির প্রবল স্রোতে ওই কাঠের সাঁকোটি ধসে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভেসে যায়। ফলে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ঘটনার পর শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খান, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমার দাশ, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে এমপি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আলোচনা শেষে সাময়িকভাবে পুনরায় একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে নতুন সাঁকোর ব্যয় নির্ধারণ করে প্রাক্কলন প্রস্তুতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এলজিইডিকে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে এ দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আরও খবর

Sponsered content