প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৫ , ৪:০১:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বিনোদন প্রতিবেদক: বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে পাইরেসি যেন এক নীরব মহামারিতে রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি পরিচালক শরাফ আহমেদ জীবন তাঁর নির্মিত সিনেমা ‘চক্কর’ ইউটিউবে অবৈধভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমার কাছে মনে হচ্ছে, বাংলা সিনেমা প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে! আর সেই ধর্ষক হচ্ছে যারা পাইরেসি করছে তারা!”
শুক্রবার (২৭ জুন) নিজের সামাজিক মাধ্যম পেজে দেয়া এক পোস্টে জীবন লেখেন, “আমরা যদি পাইরেসি বন্ধ করতে না পারি, তাহলে হয়তো দু-একটা সিনেমা চলবে, কিন্তু পুরো ইন্ডাস্ট্রি কখনো দাঁড়াতে পারবে না। আমি আমার সব কিছু দিয়ে সিনেমা বানাব আর কিছু লোক বসে বসে পাইরেসি করে টাকা কামাবে—এটা হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “সিনেমা পেশার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বলছি—এই ইন্ডাস্ট্রি শুধু একজন প্রডিউসার বা একজন ডিরেক্টরের না। যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তার প্রভাব সবার ওপর পড়ে। তাই সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।”
জীবন পাইরেসিকে “যুদ্ধ”, “মহামারি” এবং “দণ্ডনীয় অপরাধ” বলে অভিহিত করে বলেন, “আমরা ৭১-এ জয়ী হয়েছি, আমরা কভিডকে প্রতিহত করেছি, আমরা ২০২৪-কে নিজেদের করে নিয়েছি, তাহলে পাইরেসিকে কেন প্রতিহত করতে পারব না? শুধু নিজের বিবেকটা জাগাতে হবে। রাষ্ট্রকেও তার দায়িত্ব নিতে হবে।”
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ খ্যাত এই অভিনেতা ও নির্মাতা সরাসরি বলেন, “আপনাকে অন্তত একবার হলেও বলতে হবে—‘আমি পাইরেসির পক্ষে না। আমি পাইরেসিকে সমর্থন করি না।’ ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে যারা পাইরেসি করে, তাদের শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড হোক! কারণ তারা আমাকে, আমার সিনেমাকে ধর্ষণ করছে—প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে।”
শরাফ আহমেদ জীবনের এই স্পষ্ট ও আবেগী অবস্থান ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অনেক নির্মাতা, শিল্পী ও দর্শক তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করছেন, এই অপরাধ দমন ছাড়া চলচ্চিত্রশিল্পের টিকে থাকা সম্ভব নয়। সিনেমা রক্ষা করতে হলে সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে—এমনটিই মত বিশ্লেষকদের।




















