প্রচ্ছদ

ছাত্র আন্দোলনের মুখোশে চাঁদাবাজির রাজত্ব: এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

  প্রতিনিধি ২৮ জুলাই ২০২৫ , ৩:০৬:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকা শহরে ছাত্র আন্দোলনের নামে গড়ে ওঠা একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে পরিচালিত এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সিনিয়র সংগঠক আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলায়মান রিয়াদ। তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে গুলশানে এক সাবেক নারী সংসদ সদস্যের বাড়িতে চাঁদা আদায়ের সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এ সময় আরও চারজন সহযোগীসহ তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

১০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি, হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ

ভুক্তভোগী সাবেক এমপির অভিযোগ, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে আসা রিয়াদ ও তার সহযোগীরা তাদের ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সামাজিকভাবে হেয় করা, অপপ্রচার চালানো এবং ভয়ভীতি দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়। এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করে আসছিল।

আন্দোলনের মুখোশে অপরাধী চক্র!

তদন্তে উঠে আসে, এই সংগঠনের পেছনে আছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের আলোচিত নেতা নাহিদ, যিনি এই পুরো সিন্ডিকেটের নির্দেশদাতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে ‘গ্যাংয়ের মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, নাহিদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে জনসচেতনতা ও অধিকার আন্দোলনের মোড়কে গোপনে চাঁদাবাজি এবং প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা করে আসছিলেন।

কোটা আন্দোলনের নামে অপরাধী তৈরির কারখানা?

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষিত সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, একসময় যারা কোটা সংস্কারের নামে রাজপথে দাঁড়িয়ে ‘সাম্য ও ন্যায়ের’ কথা বলত, তারা আজ কীভাবে ছাত্র সমাজকে বিভ্রান্ত করে অপরাধী গ্যাংয়ে পরিণত হলো?

বিভিন্ন সূত্র বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কিছু সংগঠন ছাত্রদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক ফায়দা লুটে নিচ্ছে। অনেকেই এখন দাবি তুলছেন, এসব সংগঠনের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচনে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, “আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা এই চক্রের অন্যান্য সদস্য ও তাদের মদতদাতাদের শনাক্তে কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্র আন্দোলনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে কেউ যদি অপরাধ করে, সেটি রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের জন্যই হুমকি।”

ছাত্র আন্দোলন একটি রাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, তা যদি অপরাধের ঢাল হয়ে ওঠে, তবে তা রোধে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে চলা এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের ঘটনা প্রমাণ করে—অবিলম্বে এসব সংগঠনের কার্যক্রম, অর্থায়ন ও নেতৃত্বের উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জনগণ ও ছাত্রসমাজ আজ জানতে চায়—কোটা সংস্কারের নামে যারা এক সময় জাতীয় মূল্যবোধের কথা বলত, তারা কি আদতেই সেই মূল্যবোধ ধারণ করে? নাকি তা ছিল মুখোশের আড়ালে ক্ষমতা ও অর্থের রাজনীতি?

আরও খবর

Sponsered content