সারাদেশ

কলমাকান্দায় ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

  সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: ৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:০৪:২০ প্রিন্ট সংস্করণ


নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধকে কেন্দ্র করে বড়খাপন ও পোগলা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা–নাগেরগাতী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দত্তখিলা–নাগেরগাতী এলাকায় নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে মেদার বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে দত্তখিলা খালে নামতে পারছিল না। এতে বড়খাপন ইউনিয়নের কৃষকেরা তাদের আবাদি জমির ধান রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করেন। তবে এর ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে পোগলা ইউনিয়নের কান্দুলিয়া বিলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

এ নিয়ে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে গত দুই দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষে ইসরাফিল (২৬), হেলাল শেখ (৬৫), মো. ইলিয়াস (৩৫), মুহাম্মদ (৪৫), মো. আনিস (২২), রুবেল (৩০), জুয়েল (২৫), রব মিয়া (৪২), আজাহারুল ইসলাম (২৬), মাসুদ (৪০), জামাল (৪০), আ. কাইয়ুম (৩৫), হাক্কুল (৩২) ও তফিকুল ইসলাম (২৫)সহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষ চলাকালে পোগলা ইউনিয়নের কিছু লোক বাঁধের একটি অংশ কেটে দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পোগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের এলাকার প্রায় ৯০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। পরে ভুক্তভোগী কৃষকেরা বাধ্য হয়ে আংশিক বাঁধ কাটেন। এ সময় বড়খাপন ইউনিয়নের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়।”

এ বিষয়ে বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুই ইউনিয়নের কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় পানি নিষ্কাশন ও ফসল রক্ষায় সমন্বিত ও টেকসই সমাধান বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content