জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক পরিণত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে

  প্রতিনিধি ২৬ জুন ২০২৬ , ৪:৪৪:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে বাংলাদেশ-চীন বহুমাত্রিক সম্পর্ক পরিণত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘চীনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে একটা দীর্ঘমেয়াদী, কৌশলগত, অংশীদারত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যার ভিত্তিতে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পেরিয়ে বহুমাত্রিক সম্পর্কে রূপ নিয়েছে।’

আজ শুক্রবার চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টায়) সেন্ট্রাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনের বেইজিং সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, ‘এই স্বল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রী চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর যে তিনজন মানুষ রয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ওন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি (বাংলাদেশের স্পিকারের সমকক্ষ), তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। অত্যন্ত হাই লেভেলের ডেলিগেশনে বাংলাদেশ এবং চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়ে সব স্তরে আলোচনা করা হয়েছে। যেখানে নির্ধারিত হয়েছে, এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট, রেসপেক্ট, কো-অপারেশন এবং অবশ্যই দুই দেশের নিজস্ব স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের নেতৃত্বের সম্মতির ওপর ভিত্তি করে মোট ১৭টি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের বিভিন্ন গভর্নমেন্টের মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি স্বাক্ষর হয়েছে। তিনটি হয়েছে বাংলাদেশের বিডার সঙ্গে চীনের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের এবং একটা হয়েছে পলিটিক্যাল পার্টি টু পলিটিক্যাল পার্টি অর্থাৎ দুইটি দেশের বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে তাদের ভেতরে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এই ঐতিহাসিক সফরের ওপর ভিত্তি করে একটি যৌথ ইশতেহার প্রণীত হচ্ছে, সেখানে ১৬টি পয়েন্ট থাকবে। অর্থাৎ ১৬ পয়েন্ট সম্বলিত একটি যৌথ ইশতেহার, সেখানে এই পুরো সফরের বিস্তরিত যে আন্ডারস্ট্যান্ডিংগুলো হয়েছে, যেখানে ঐকমত্য হয়েছে, তা তুলে রাখা হবে। আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে চীনে যাদের সাথে কথা বলেছি এখানকার প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। উনারা প্রত্যেকে বাংলাদেশ এবং চীনের ৫০ বছরের সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে অসাধারণ, অনবদ্ধ ভূমিকা রয়েছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘চীনের প্রত্যেকে বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্কের দিক থেকে আজকে যে অবস্থানে রয়েছে তার পেছনে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিভিন্ন সময় ফ্যাসিলিটেট করেছেন, পলিসি দিয়েছেন, বারবার এখানে রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন সেগুলোকে উনারা ডিপলি এপ্রিশিয়েট করেছেন। বাংলাদেশের দিক থেকে প্রধানমন্ত্রী আবারও নিশ্চিত করেছেন আমাদের ‘‘ওয়ান পলিসি, ওয়ান চায়না’’ পলিসি অর্থাৎ চায়নাকে আমরা একটি একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখি, যার ভেতর তাইওয়ান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেটি সুসংহতভাবে সুনিশ্চিত করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় পর গত চার মাসে উনার যে পিপল-সেন্ট্রিক পলিসিগুলো (জন-কেন্দ্রিক নীতি) রয়েছে, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে ও সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে যে পলিসিগুলো গৃহীত হয়েছে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে, সেগুলোর জন্য চীনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উনারা এটিকে খুব ডিপলি এবং গ্রেটলি এপ্রিশিয়েট করেছেন। বলেছেন জনগণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরে এ পলিসিগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যতটুকু করা প্রয়োজন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে এবং পাশে থাকবে।’

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘এখানে আমাদের এক্সপোর্টের পরিমাণ খুব সীমিত, কিন্তু চীন থেকে বাংলাদেশে ইম্পোর্টের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। কিন্তু এটাকে নিয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ভেতরে, সরকারপ্রধানের ভেতরে আলাপ আলোচনার জন্য ডিটেইল প্লাটফর্মে আলোচনা হয়েছে‌। এবং সেখানে বলা হয়েছে কীভাবে বাংলাদেশ থেকে আমরা ট্রেড গ্যাপটা কমাতে পারি। যেমন যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি রয়েছে, ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাসিটি রয়েছে, সেই সেক্টরগুলোকে আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি কি না এবং তার থেকে এক্সপোর্ট করে বাংলাদেশে আমরা বাড়াতে পারি কি না। আমাদের অ্যাগ্রিকালচার প্রোডাকশন কীভাবে বাড়াব যে গার্মেন্টস রপ্তানি হয়, বাংলাদেশ থেকে তার একটা বড় অংশ র মেটেরিয়ালস (কাঁচামাল) কিন্তু আমরা চীন থেকে বাংলাদেশে প্রথমে আমদানি করি, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করি। সেই প্রোডাক্টগুলো কি আমরা র মেটেরিয়ালস হিসেবে বাংলাদেশে প্রডিউস করতে পারি কি না এগুলো নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমানে যে সাপ্লাই চেইন রয়েছে তা কিন্তু চীনে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। দেখা যাচ্ছে তাদের অনেক ফ্যাক্টরি রিলোকেট হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। চীনের নেতৃত্ব বলেছে রিলোকেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কীভাবে প্রাধান্য দেওয়া যায়। যেসব জায়গায় বাংলাদেশের হিউম্যান রিসোর্স রয়েছে, টেকনিক্যাল ক্যাপাসিটি রয়েছে, সেই ইন্ডাস্ট্রিগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আমরা কীভাবে জব ক্রিয়েট করতে পারি- এগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এবং নিশ্চিত করা হয়েছে সামনের দিনগুলোতে চীনের দিক থেকে বাংলাদেশের ট্রেড কীভাবে বাড়ানো যায়, বাংলাদেশে কীভাবে ফ্যাক্টরি প্রেজেন্স বাড়ানো যায়- এগুলো নিয়ে উনারা কাজ করবেন। যে ইনভেস্টমেন্টগুলো হবে চীন থেকে, সেখানে অবশ্যই কর্মসংস্থানকে একটি অন্যতম প্রাধান্যের ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হবে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের অনেক ধরনের উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট চলমান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সামনের দিকে আমরা এই প্রজেক্টগুলোকে আরও ব্যাপ্তি বাড়াতে চাই। রোডের ক্ষেত্রে অর্থাৎ সড়ক, ব্রিজ, রেলওয়েজ এ প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে চীন আমাদেরকে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন মেকানিজমের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে চায়। বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের ভেতর রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে একটা ইকোনমিক এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এটা যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করার জন্য। একই সাথে মোংলা ইকোনমিক জোন, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট অর্থাৎ গ্রিন এনার্জি এবং এর পাশাপাশি যেখানে সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্টের জায়গা রয়েছে ইকোলজিক্যাল এবং এনভারনমেন্ট ফ্রেন্ডলি বিভিন্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট রয়েছে, সেগুলোকে চীন প্রায়রিটাইজ করতে চাচ্ছে।’

বাংলাদেশে জ্বালানি সমস্যা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে চীন পাশে থাকতে চায় জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘তিস্তা প্রজেক্টের বিষয়ে আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আমরা যাচ্ছি। এখানকার প্ল্যানিং, ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং টেকনিক্যাল যেকোনো সাপোর্টে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ পানি ব্যবস্থাপনায় চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়। এই মহাপরিকল্পনার প্ল্যানিং স্টেজ থেকে শুরু করে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রোভাইড করা, তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের প্রজেক্ট ডিজাইন করা, প্ল্যানিং, এক্সিকিউশন সব জায়গাতে ধারাবাহিকভাবে চীন সরকার যুক্ত হবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবনা এসেছে কীভাবে বাংলাদেশ এবং চীন হয়ে একটি ইকোনমিক করিডর তৈরি করা যায়। যে ইকোনমিক করিডরের মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির আরও ব্যাপ্তি বাড়ানো।চিটাগাং পোর্টকে আরও কীভাবে আধুনিকরণ করা যায় এবং আমরা একটা রিজিনাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারি‌। যেখানে শুধু বাংলাদেশের জন্য না চিটাগাং পোর্ট অন্যান্য দেশের জন্য সার্ভ করবে সেটা নিয়ে যেমন আমরা কাজ করতে চাই, একই সাথে মোংলা পোর্টকে আপগ্রেড করার জন্য এবং মোংলা পোর্টকে আরও বেশি প্রোগ্রেসিভ করার জন্য সার্ভিস অরিয়েন্টেড করার জন্য চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশ থেকেও আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ এবং চীনের মাঝে বহুপক্ষীয় যে সম্পর্ক তার অংশ হিসেবে আমরা পিপল টু পিপল টাইস বাড়াতে চাই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষাব্যবস্থা, যেমন ইতোমধ্যে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিনকে প্রাইরিটাইজ করা হচ্ছে, টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল এডুকেশনকে প্রায়রিটাইজ করা হচ্ছে এবং এই দুই ক্ষেত্রেই চীন তার নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘চীনা ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদেরকে শিক্ষক এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল সাপোর্ট উনারা প্রোভাইড করবেন, হেলথকেয়ারের ক্ষেত্রে কীভাবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বাংলাদেশে আমরা প্রয়োগ করতে পারি বিভিন্ন ধরনের রোবটিক সার্জারি এবং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা থেকে অন্যান্য বিষয়ে চিন্তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এবং বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা করতে যান চীন, সেখানে ভিসা প্রসেসিং ইজি করার মাধ্যমে এবং অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশি যারা বিদেশে চিকিৎসা করতে চান তাদের জন্য দ্বার উন্মোচন করতে ইচ্ছুক।’

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেনন, ‘এর পাশাপাশি সংস্কৃতি, মিডিয়া, টেকনোলজি, সামগ্রিকভাবে নলেজ ট্রান্সফার এবং এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন নিয়ে আমরা পিপল টু পিপল অর্থাৎ দুই দেশের ভেতরে সম্পর্ক আরও বাড়াতে চাই। সুতরাং সেখানে ঐতিহ্যের বিষয় রয়েছে, তথ্যের বিষয় রয়েছে, প্রযুক্তির বিষয় রয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা চাই দুই দেশের জনগণের ভেতর আরও সম্পর্ক বৃদ্ধি হোক এবং এগুলো নিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বে আলোচনা করেছেন।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান খুব পরিষ্কার। আমরা চাই সেফ ভলান্টারি এবং ডিগনিফাইড ওয়েতে যারা আমাদের দেশে রোহিঙ্গা রয়েছেন, উনারা নিজ দেশে ফেরত যাক। এ বিষয়ে চীন আমাদেরকে কথা দিয়েছে আমরা যখন চাই উনারা মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদেরকে কোনো ডায়লগ প্রয়োজন হলে সেখানে ফ্যাসিলিটেট করবে। এবং আমরা সেইভ ভলান্টারি এবং ডিগনিফাইড ওয়েতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেটা ইতোপূর্বে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছিল, আমরা এ বিষয়ে সামনে আলোচনা শুরু করব।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘ফরেন এবং ডিফেন্স এই দুটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফর দ্য ফার্স্ট টাইম বাংলাদেশের সঙ্গে চায়নার ‘‘টু প্লাস টু’’ একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। যেখানে দুই দেশের ফরেন মিনিস্ট্রি এবং ডিফেন্স মিনিস্ট্রি থেকে রিপ্রেজেন্টেটিভ যারা রয়েছেন উনাদের নিয়মিত আলোচনার ভিত্তিতে সামনের দিনগুলোতে ডায়লগ শুরু হবে। এই ইন্স্ট্রুমেন্টের ডিটেইলসটা ওয়ার্কআউট করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সোভারেন্টি বা সার্বভৌমত্ব ইন্ডিপেন্ডেন্স বা স্বাধীনতা এবং টেরিটরি ইন্টিগ্রিটিকে সম্মান জানিয়ে চীন বলেছে, গণতন্ত্র ব্যবস্থায় বাংলাদেশে যেভাবে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে একটি সরকারের , যেটির পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বহিঃপ্রকাশ, সেটি নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশও চায় যেমন স্বাধীন সার্বভৌম থাকতে, চীনও চায় তার মতো করে স্বাধীন সার্বভৌমভাবে দেশ পরিচালনা করতে। এটা একটা গ্লোবাল ভ্যালু যেটা আমরা হোল্ড করতে চাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং চীনের বাইল্যাটারাল টাইসের পাশাপাশি মাল্টিল্যাটারাল টাইস অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইউএন বিভিন্ন বডিজে বাংলাদেশ এসপারেশনস রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যেমন আমরা ইউএনজিএতে ইলেকশন হলো যেখানে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে, সেখানে চীন সহযোগিতা করেছে। চীন বাংলাদেশকে কংগ্রাচুলেট করেছে এবং বাংলাদেশ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে উনাদের সহযোগিতার জন্য। ব্রিকসে মেম্বারশিপের জন্য বাংলাদেশ যখন আবেদন করবে চীন সেটাকে স্বাগত জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু জনগণ দ্বারা ক্ষমতায়িত একজন সরকারপ্রধান, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমরা দেখেছি মালয়েশিয়া, তারপর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং বর্তমানে চীনে উনাকে অনেক বেশি সম্মান, আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা দিয়ে বরণ করা হচ্ছে। তিনি সমগ্র দেশের যে আবেগ এবং গৌরবকে ধারণ করে বিশ্ব দরবারে যেভাবে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন, শোল্ডার টু শোল্ডার স্ট্যান্ড করছেন এবং যেভাবে রিসিভড হচ্ছেন যে ডিগনিফাইড ওয়েতে এটা বাংলাদেশের জন্য একটা অনেক বড় গৌরবের বিষয়।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, আমাদের একটা নিউ ব্লুপ্রিন্ট হয়েছে ফর লং টার্ম সাস্টেইনড এবং ট্রাস্টেড রিলেশন। এই নিউ ব্লুপ্রিন্টের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছি এবং তার ওপর ভিত্তি করে আগামী বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হবে। যেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা উন্নয়ন এ ধরনের বহুপাক্ষিক বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যে ধারাতে আমরা এসে পৌঁছেছি, সেটাকে ধারণ করে কিন্তু একটা দীর্ঘমেয়াদী, কৌশলগত, অংশীদারত্বের সুসম্পর্ক ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত করব।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সুজন মাহমুদ, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হকসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।

আরও খবর

Sponsered content