স্টাফ রিপোর্টারঃ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৬:৫৪:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সুতার লারা, মাসাবো ও সাদীপুর মৌজায় জমি দখল, হুমকি প্রদান এবং জোরপূর্বক জমি বিক্রিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মোঃ সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, মোঃ নাদিম ভূঁইয়া ও সুলতানা আক্তারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উভয় পক্ষকে নালিশী ভূমিতে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন, কোনো পক্ষ যদি জমিতে দখল বা নির্মাণ কার্যক্রম চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রূপগঞ্জ উপজেলার সুতার লারা মৌজার আরএস দাগ নম্বর ৪০৪ (এসএ ২৮৫)-এর জমিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক জমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সুতার লারা ও মাসাবো মৌজার বিভিন্ন জায়গায় কৌশলে জমি বিক্রি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে প্রকৃত মালিকদের জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, সাদীপুর মৌজার আরএস দাগ নম্বর ২৫০৪-এ ১০ শতাংশ জমির মধ্যে ভুক্তভোগীদের অংশ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ জমি খারিজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সোনারগাঁও ভূমি অফিসের কাচপুর সার্কেলে মিস কেস নং ১৫৬/২৪ বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তাদের পিতা আলাউদ্দিন ভূঁইয়া ১৯৮৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পাঁচ পুত্র, দুই কন্যা ও এক স্ত্রী রেখে যান। তার এক পুত্র মনিরুদ্দীন ভূঁইয়া বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এ সুনামের সঙ্গে চাকরি শেষে ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া তিন ভাই ও দুই বোনের নামে জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে ২০০৮ সালে জমি বিক্রি করেন। যার দলিল নম্বর ২২,৩১১; তারিখ ৩০ আগস্ট ২০০৯; ভলিয়ম ৫২১/৯, রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তারা দাদার বসতবাড়ি ও পৈতৃক সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা বসতবাড়িতে ঘর নির্মাণ বা বসবাস করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলমুক্ত পরিবেশে বসবাসের নিশ্চয়তা এবং তাদের পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।





















