জাতীয়

জ্বালানি সংকটের ছায়া: ফের আসছে কৃচ্ছ্রসাধন, বদলাতে পারে অফিস-স্কুলের ছন্দ

  বিশেষ প্রতিবেদক ৩০ মার্চ ২০২৬ , ১১:৫৮:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের খবর নয়, এর রেশ সরাসরি এসে পড়ছে ঢাকায়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই বাংলাদেশ সরকার আবারও কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, করোনাকালের পরিচিত কিছু সিদ্ধান্ত আবার টেবিলে উঠেছে—অফিসের সময়সূচি বদল, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, এমনকি সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর চিন্তা চলছে, যাতে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা কমানো যায়।

সরকারি দপ্তরগুলোকে ইতোমধ্যে নিজেদের মতো করে জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামনে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। আপাতত তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা মাথায় রাখা হলেও, পরিস্থিতি খারাপ হলে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলেও যেতে পারে সরকার।

মূল চাপটা আসছে তিন দিক থেকে—আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ডলার সংকট। ফলে শুধু সরবরাহ নয়, এখন চাহিদা নিয়ন্ত্রণও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই চাহিদা নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই আলোচনায় আছে—

  • সপ্তাহে একদিন বাড়তি ছুটি বা দুদিন ঘরে বসে কাজ
  • অফিসের সময় এগিয়ে আনা বা কাজের সময় কমানো
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস

এদিকে সরকারি ব্যয় কমাতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকা, কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে কড়াকড়ি—এসব প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। তবে আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অফিসগুলোকে কঠোরভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছে—দিনের আলো ব্যবহার, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি বা তার ওপরে রাখা, অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা। এসব তদারকিতে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

সমস্যার মূল শিকড়টা মধ্যপ্রাচ্যে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহে বড় ধাক্কা দেয়। বাংলাদেশ যেহেতু আমদানিনির্ভর, তাই এর প্রভাব এখানে দ্রুত পড়ে। ইতোমধ্যে সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে দেশকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরেক বাস্তবতা—দেশীয় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা পুরো অর্থনীতিতেই চাপ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট—সংকট এখনো পুরোপুরি আসেনি, কিন্তু তার ছায়া ঘন হচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে খেসারত আরও বড় হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই সংকট সামাল দিতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content