হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ , ৮:৫৩:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকার হইচই ছাড়াই গ্রামীণ ঐতিহ্যের রঙে রঞ্জিত হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়িবাঁধ। সকাল থেকে সন্ধ্যা— সারাদিন ধরে চলছে মাছ ধরার মহোৎসবকে ঘিরে হাজারো মানুষের সমাগম। হাতে জাল, খইলসা, ছোট নৌকা কিংবা ভেলা— যা আছে তাই নিয়েই নদীর বুকে নেমেছেন মাছ শিকারি ও সাধারণ মানুষ। তৈরি হয়েছে উৎসবের এক অনন্য আবহ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সুক নদীর ওপর নির্মিত ঐতিহাসিক বুড়িবাঁধ এলাকায় শুরু হয় এ মাছ ধরার উৎসব। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধের জলকপাট খুলে দেওয়া মাত্র নদীর দুই তীরে ভিড় জমতে থাকে স্থানীয় জনগণসহ দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও রংপুর জেলার হাজারো মানুষের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পানিতে কোমর সমান জলে নেমে সারিবদ্ধভাবে জাল ফেলছেন শত শত মানুষ। কেউবা খইলসা দিয়ে মাছ ধরছেন, কেউ আবার ছোট নৌকা ভাসিয়ে দিচ্ছেন জালে টান পড়ার আশায়। উৎসব যেন নদীর বুকজুড়ে— একদিকে মাছ ধরা, অন্যদিকে সেই মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বাঁধপাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী মাছের হাট। ধরা পড়ছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ— টাকি, পুঁটি, শোল, শিং, টেংরা, ফলি, মলা, কইসহ নানারকম মাছ।
একজন স্থানীয় তরুণ মৎস্যজীবী বলেন,
“আগের মতো বড় বড় মাছ এখন আর তেমন পাওয়া যায় না। তারপরও এই উৎসব আমাদের গ্রামের মানুষের আনন্দের জায়গা। সবাই মিলে নদীতে নামা, একসঙ্গে হাসি-আনন্দ— এটাই আমাদের ঐতিহ্য।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৫২ সালে ২ হাজার ৩৮৮ হেক্টর এলাকায় বুড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে এর সংস্কার করা হয়। চলতি বছর বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার হেক্টর উঁচু জমিতে আমন ধানের সেচ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধুমাত্র মাছ ধরার উৎসব নয়— এখন এটি পরিণত হয়েছে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনমেলায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে এখানে আসছেন বিনোদনের টানে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় মুখর পুরো নদীপাড়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম বলেন,
“বুড়িবাঁধের এই মাছ ধরার মহোৎসব জমে ওঠে ঐতিহ্য ধরে রেখেই। আমরা দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় কাজ করছি। রিং জাল ও নিষিদ্ধ উপকরণ দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে। আগামী বছর মাছের প্রজনন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”




















