সারাদেশ

গোপালগঞ্জ-১ আসনে ভোটের উত্তাপ, আওয়ামী লীগ ছাড়াই জমেছে নির্বাচনী মাঠ

  শেখ শোভন আহমেদ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:৩৫:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-১ আসন (কাশিয়ানী আংশিক ও মুকসুদপুর উপজেলা) জুড়ে বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার জমায়েত—সবখানেই চলছে নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা, বিশ্লেষণ ও নানা সমীকরণ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৮১৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৪ জন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের কোনো ভোটার নেই।

গোপালগঞ্জ-১ আসন দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল তেমন সুবিধা করতে পারেনি। তবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও, ব্যতিক্রমধর্মী বাস্তবতায় এখানে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

গোপালগঞ্জ-১ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মোহাম্মদ মিজানুর রহমান,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ মোল্লা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-এর নীরদ বরণ মজুমদার ,জাতীয় পার্টি-এর সুলতান জামান খান ,গণ অধিকার পরিষদ-এর কাবির মিয়া , স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আশরাফুল আলম শিমুল, এম. আনিসুল ইসলাম ও মো. কাইউম আলী খান।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী কাবির মিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল বর্তমানে কারাগারে থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

 

এ আসনে সকল প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা নিয়মিত গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

তবে মাঠপর্যায়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদ মোল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুলের সমর্থকরা এবং বিএনপি প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যাকে।

 

এবারের নির্বাচনী সমীকরণকে ভোটাররা দেখছেন কিছুটা জটিল হিসেবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক কার দিকে যাবে—সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটগুলো যিনি বেশি টানতে পারবেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত বিজয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন। এ কারণে কয়েকজন প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলেও মন্তব্য শোনা যাচ্ছে।

 

কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের নতুন ভোটার মো. বাবুল বলেন, “আমি অন্ধভাবে বাপ-দাদার দেখানো পথে হাঁটতে চাই না। এবার আমি ব্যতিক্রম কিছু চাই। সময় এসেছে পরিবর্তনের, আমরা এখন অনেক বেশি সচেতন।”

অন্যদিকে, মুকসুদপুরের বাসিন্দা রমেশ ভবানী বলেন, “এবারের নির্বাচন ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। আমরা এমন একজন প্রার্থী চাই, যিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে থাকবেন। যোগ্য নেতা হিসেবে আমি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদ মোল্লার মধ্যেই সেই গুণগুলো পেয়েছি। আশা করছি, তিনি জয়ী হবেন।”

আরও খবর

Sponsered content