প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:২২:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ৩৪ বছর পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা বৃহস্পতিবার সরাসরি কথা বলবেন। বুধবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানান।
এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে লেবানন ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলা বন্ধের আহ্বান জানায়।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি। অনেকদিন পর, প্রায় ৩৪ বছর পরে দুই দেশের নেতা কথা বলবেন। এটি আগামীকালই হবে।’
তবে এই আলোচনায় কোন কোন নেতা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। ইসরায়েল ও লেবাননের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত ২ মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবানন। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা পুনরায় শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের নভেম্বরে লেবাননে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা প্রায় প্রতিদিন লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
এরপর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও চালাচ্ছে ইসরায়েল, যেখানে তারা আরও এলাকা দখল করে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা বাফার অঞ্চল; গড়ে তুলতে চায়।
এদিনের আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তিনি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং উত্তর সীমান্তে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে লেবানন সরকার, যারা সরাসরি এই সংঘাতের অংশ নয়, যুদ্ধবিরতি ও দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।




















