বিনোদন

মধুপুরের উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ ইউএনও মীর্জা জুবায়ের হোসেন

  রাজিবুল ইসলাম রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি- ২৮ আগস্ট ২০২৫ , ১০:৫৫:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

ছবিটিতে দেখা যায় একজন আত্মবিশ্বাসী ভদ্রলোককে—পরনে আড়ম্বরপূর্ণ চেক ডিজাইনের ব্লেজার, স্ট্রাইপ শার্ট ও পরিশীলিত ফ্রেমের চশমা। তার ভঙ্গি, দৃষ্টি ও পরিবেশের শৈল্পিকতা মিলে প্রতিফলিত হয় শিক্ষিত, চিন্তাশীল ও কর্মঠ একজন মানুষের প্রতিচ্ছবি। যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অধম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে প্রতিকূলতা জয় করে হয়েছেন ন্যায়বিচারক, সেবক ও ধার্মিক একজন মানুষ।

তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর্জা জুবায়ের হোসেন। ৩৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মধুপুরে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার সততা ও কর্মদক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং মধুপুরের সার্বিক চিত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। ফলে একদিকে কমেছে জনভোগান্তি, অন্যদিকে বেড়েছে জনসেবার মান।

বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে তিনি একাধারে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, পৌরসভার প্রশাসক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুর্দম মনোবলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ২০০৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রামীণ অপচিকিৎসায় তিনি বাম হাত হারান। কিন্তু সেই প্রতিবন্ধকতা তাকে দমাতে পারেনি। নিজের প্রচেষ্টায় আজ তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন গর্বিত সদস্য।

ইউএনও মীর্জা জুবায়ের হোসেন জানান, মাঠ প্রশাসনে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাই তিনি সরাসরি মানুষের কাছে যান, তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকারি কর্মকর্তা মানে জনগণের সেবক। তাই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব ও ঐতিহ্যবাহী মধুপুর উপজেলাকে আধুনিক উপজেলায় রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা তার নিরন্তর থাকবে।