সারাদেশ

ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক, ঝিনাইদহে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

  তানভীর সরদার, স্টাফ রিপোর্টার: ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:২৬:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ


ঝিনাইদহে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ডিজেল সংকট ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদকৃত ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক চাহিদায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রকৃত কৃষকরা।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, শৈলকূপায় ৫টি, হরিণাকুণ্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জে ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি এবং মহেশপুরে ৩টি স্টেশন রয়েছে। সংকট শুরুর পর থেকেই এসব স্টেশনে ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুজবের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডিজেল সংগ্রহ করছেন। কেউ দিনে দুই থেকে তিনবার তেল নিচ্ছেন, আবার কেউ অপ্রয়োজনে মজুদ করছেন। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষক সেজে তেল সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করছেন, যা কৃত্রিম সংকটকে আরও তীব্র করছে।

ঝিনাইদহের পোড়াহাটি এলাকার এক ফিলিং স্টেশন মালিক বলেন, “আগে যেখানে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হতো, এখন তা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এই অস্বাভাবিক চাহিদার পেছনে মূল কারণ গুজব।”

বিষয়খালীর একটি ফিলিং স্টেশনের মালিকও একই কথা বলেন। তার মতে, “বাস্তবে বড় কোনো সরবরাহ সংকট নেই, বরং সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু গুজবের কারণে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, জেলায় ডিজেল সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক তদারকি চলছে। ইতোমধ্যে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১১টি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবেন।”

আরও খবর

Sponsered content