সারাদেশ

‘তিনটি গুলির আওয়াজ শুনে গিয়ে দেখি আমার বাবা পড়ে আছে’

  প্রতিনিধি ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:৪৪:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

‘ডেকে নেওয়ার দুই মিনিট পরই তিনটি গুলির আওয়াজ শোনা যায়, দৌঁড়ে গিয়ে দেখি বাবা মাটিতে পড়ে আছে, মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই আমার আবাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে’।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কথাগুলো বলেন গুলিতে নিহত মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের মেয়ে প্রেমা আক্তার।

প্রেমার ভাষ্যমতে, ‘আমার বাবা খোরশেদ ঘরে ছিল। মজিদ আর মোরশেদ আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সামনে ডাবের গাড়ি যাচ্ছে, পিছনে তাদের তিনজনকে হেটে যেতে দেখা যায়। যাওয়ার ২ মিনিট পরই গুলির তিনটি আওয়াজ শোনা যায়। আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থল যাওয়ার পথে মোরশেদ আর মজিদ দৌড়ে এসে বলছে, যে ওয়ালিদ আর সোহাগ আমার বাবাকে গুলি করেছে। সঙ্গে সঙ্গে গেলেও আমি কাউকে দেখিনি। গিয়ে দেখি আমার বাবা মাটিতে পড়ে আছে। পরে আমার মাও সেখানে আসে। আমার বাবা তখন ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলেছে।’

প্রেমা আরও বলেন, ‘আমার বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিল। বিএনপি করার কারণে ১৭ বছর আওয়ামী লীগের আমলে নানান মিথ্যা মামলা খেয়েছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে তাকে মারা হয়নি। যদি রাজনীতিকে কেন্দ্র করে মারা হতো, তাহলে তিনি আওয়ামী লীগের সময় মারা যেতো। মূলত উনি মাটির ব্যবসা করতো। মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্রিক ফিল্ডের মালিক হিরুসহ তার অন্যান্য লোকেরা আমার বাবা পিছে লেগে গেছে। এরআগে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বার বার ধমক দিয়েছে, মেরে ফেলবে। যাতে মাটির ব্যবসা না করে। অন্য কোন কারণ আছে কিনা আমি জানি না। তবে মূল কারণ মাটির ব্যবসা। আমার বাবাও মারা যাওয়ার আগে বলে গেছে হিরু, ওয়ালিদ, সোহাগ। এখন বাকিটা তাদের গ্রেপ্তার করলে জানা যাবে।’

খোরশেদ হত্যায় গতকাল বুধবার রাতে তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩ জনের নামে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছুট্টু ও মাসুদ রানাকে আটক করে।

গ্রেপ্তার ছুট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে ও মাসুদ বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

থানা পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, গতকাল বুধবার দুপুরে দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদকে গুলি করা হয়। একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহীম ছোট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু, জহিরসহ আরও ৫-৬ জন সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে বলে জানা যায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খোরশেদকে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত খোরশেদ দিলশাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ও পেশায় মাটি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘খোরশেদ হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আরও খবর

Sponsered content