প্রচ্ছদ » প্রচ্ছদ » তিস্তার শাখা নদীর সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: চরম দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
তিস্তার শাখা নদীর সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: চরম দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ২৯ মে ২০২৫ , ৯:৩৮:০৯প্রিন্ট
সংস্করণ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নিজামখাঁ গ্রামে তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মিত কাঠের অস্থায়ী সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে। এতে ওই অঞ্চলের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সাঁকো ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সব শ্রেণির মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নিজামখাঁ গ্রামের তিস্তার শাখা নদীর উপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটি ছিল আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা। তবে গত সপ্তাহে নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে প্রবল স্রোত এবং কচুরিপানার চাপ সহ্য করতে না পেরে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে।
স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, “স্কুলে যেতে এখন অনেক কষ্ট হয়। আগে যেখানে ১০ মিনিট লাগত, এখন আধাঘণ্টা আগে বের হতে হয়। অনেক সময় শরীর ভিজে যায়, বই-খাতাও ভিজে যায়।”
সাঁকো ভেঙে পড়ার ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নৌকায় কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে নদী পার হচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষক ও রোগীদের পরিবার চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। একজন স্থানীয় কৃষক জানান, “রোগী নিয়া হাসপাতালে যাইতে অনেক কষ্ট হইতেছে। হেঁটে গেলে সময় বেশি লাগে, আবার নৌকাও সবসময় পাওয়া যায় না।”
পাকা সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভরসা ছিল কাঠের এই সাঁকোটি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার কারণে ঝুঁকিতে পড়ে সাঁকোটি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, “জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে গাছ সংগ্রহ করে সাঁকোটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা অস্থায়ীভাবে সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছি। তবে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী একটি স্থায়ী সেতুর জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এলাকাবাসী মনে করেন, তিস্তার এই শাখা নদীর উপর একটি কংক্রিটের স্থায়ী সেতু নির্মাণ করলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, শিক্ষা, কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।
এখন দেখার বিষয়, কবে নাগাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে।