রাজনীতি

ধর্ম দিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা এক ধরনের বর্ণবাদ: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি— ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:৩০:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ


ধর্ম দিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা এক ধরনের বর্ণবাদ বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাজনীতিতে ধর্ম টেনে আনা ঠিক নয় এবং সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই বাংলাদেশের মূল শক্তি।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “এই দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ বসবাস করে। রাজনীতিতে ধর্ম টেনে আনা ঠিক নয়।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। আপনারা সংখ্যালঘু নন, আপনারা বাংলাদেশি। আমরা আপনাদের শান্তি ও নিরাপত্তা দিতে চাই।”

দলের ওপর গত দেড় দশকের নিপীড়নের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত ১৫ বছরে বিএনপির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে একশরও বেশি মামলা হয়েছে। ১১ বার জেলে গেছি, সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমরা রাজপথ ছাড়িনি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি আরও বলেন, “ঠাকুরগাঁও সদর থানায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ দমে যায়নি, কেউ আওয়ামী লীগে যায়নি। কারণ আমরা সঠিক পথে ছিলাম, সত্যের পক্ষে ছিলাম। সেই সত্যের পক্ষে থাকার কারণেই ’২৪-এর আন্দোলনের পর আমরা মুক্ত বাতাস পেয়েছি।”

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “এখন দেশের মানুষ রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারে। আগে পুলিশি হয়রানির ভয়ে মানুষ খোলা মাঠে রাত কাটাত। এখন আমাদের দায়িত্ব একটি সুন্দর, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া।”

প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ওরা মামলাবাজি করেছে বলে আমরা পাল্টা মামলা করব—এটা যেন না হয়। আমাদের নেতা শহীদ জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি, সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন প্রতিশোধ নয়, হিংসা নয়। আমরা ভালোবাসা দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

ক্ষমতায় এলে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল ও আটা পাওয়া যাবে। কৃষকদের জন্য দেওয়া হবে কৃষি কার্ড, যাতে সার ও বীজ ন্যায্যমূল্যে পাওয়া যায়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি নতুন নই। পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে, সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করেছি। আমার পরিবারকে আপনারা চেনেন। বাবার-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি, আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না।”

দলের ভেতরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার দলের কেউ যদি অন্যায় বা দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত থাকে, আমাকে জানাবেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। আওয়ামী লীগ যে কাজ করেছে, আমার দলের লোককে সে কাজ করতে দেব না।”

আরও খবর

Sponsered content