স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর ৪ মার্চ ২০২৬ , ৮:১৯:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
মাদারীপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পালরদী নদীর ভাঙনে কালকিনি–ফাঁসিয়াতলা পাকা সড়কের আলীনগর এলাকার প্রায় আধা কিলোমিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নদী শাসন ও সড়ক সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কটি ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি প্রভাবশালী কিছু বালু ব্যবসায়ী নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
সড়কটি পুরোপুরি বিলীন হলে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বর্তমানে আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়, কালীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ তিনটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে।
পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ফাঁসিয়াতলা হাটে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে হাটের কয়েক হাজার মানুষ পাট, সরিষা, মুসুরি, খেসারি, গরু-ছাগল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। সপ্তাহে দুই দিন হাট বসার সময় বিকল্প পথে আসতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে। এতে করে ধীরে ধীরে হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, নদীতে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের কারণেই সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলম সরদার বলেন, “অন্যান্য এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু আমাদের এলাকার রাস্তা কেন সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে না—এটাই প্রশ্ন।”
ফাঁসিয়াতলা হাট কমিটির সভাপতি মামুন সরদার জানান, “রাস্তা ব্যবহার করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এই খরচ পণ্যের দামের ওপর পড়ছে, ফলে সাধারণ মানুষ বেশি দামে জিনিস কিনতে বাধ্য হচ্ছে।”
কালীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসাইন কিরণ সরদার বলেন, “নদীর ওই অংশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করে ভাঙন রোধ করা গেলে সড়কটি টিকে থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে।”
আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আ. মান্নান জানান, পরিষদের অর্থায়নে বাঁশ দিয়ে সাময়িকভাবে সড়ক মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এখানে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, “নদী ভাঙনের বিষয়টি সাধারণত পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখে। তবে আমি বিষয়টি মাদারীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এটি উত্থাপন করা হবে।”
মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানাউল কাদের খান বলেন, “যেহেতু এটি এলজিইডির রাস্তা, সুরক্ষার জন্য তাদের বরাদ্দ থাকতে পারে। আমরা যদি এলজিইডির রাস্তা রক্ষায় কাজ করি, তাহলে আলাদা প্রকল্প নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ।”
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।




















