সারাদেশ

বনানীতে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই নেতাকে বিএনপির মিছিলে দেখে ক্ষোভ ত্যাগী নেতাদের, নানা অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক

  বনানী (ঢাকা) প্রতিনিধি : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:৩৭:০০ প্রিন্ট সংস্করণ


রাজধানীর বনানীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ফর্মা শহীদ এবং শ্রমিক লীগ নেতা সানোয়ারকে বিএনপির প্রচারণা মিছিলে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দুজনই অতীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

ফর্মা শহীদ গোডাউন বস্তির একজন পরিচিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি যুবলীগ নেতা ছিলেন এবং বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেলের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে সানোয়ার ছিলেন শ্রমিক লীগ নেতা এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুনায়েদ মনিরের ক্যাশিয়ার হিসেবে চাঁদা সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে।

এই দুইজনকে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মহাখালীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ধানের শীষের প্রচারণা মিছিলে দেখা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, “১৭ বছর আমরা জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। এখন আমাদের কোনঠাসা করে সুবিধাবাদীরা জায়গা পাচ্ছে—বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।”

বনানী থানা বিএনপির এক কর্মী অভিযোগ করে বলেন, “ফর্মা শহীদ ও সানোয়ার আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা করেছে, পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে। বস্তিতে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করেছে তারা।”

বেদে বস্তির বাসিন্দা ফারুক অভিযোগ করেন, চাঁদার জন্য ফর্মা শহীদ তার ওপর হামলা ও নির্যাতন চালান। অন্যদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি কড়াইল ঝিলের একাংশ ভরাট করে গাড়ির গ্যারেজ গড়ে তুলেছেন শহীদ, যার পেছনে কয়েকজন বিএনপি নেতার মদদ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে তারা নিজেদের বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তারা আওয়ামী লীগের খোলস বদলে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দখল ও চাঁদাবাজির কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন। তাদের চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার একটি বড় অংশ স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাদের কাছে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন—কত টাকার বিনিময়ে তাদের পুনর্বাসন করেছে বিএনপির কিছু নেতা? তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতা।

আরও খবর

Sponsered content