প্রতিনিধি ৪ জুলাই ২০২৫ , ৪:০৪:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মহাখালীতে অপরাধ জগতের ‘নতুন রাজা’ স্বেচ্ছাসেবক দলের মিশু!
ফুটপাত দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
সোহেল রানা, ঢাকা: রাজধানীর মহাখালীর অপরাধ জগতের চিত্র বদলে গেছে ক্ষমতার পালাবদলে। এক সময় এখানে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায় রাজত্ব করতেন বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেল। এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের বনানী থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু।
৫ আগস্টের পরপরই সবার আগে সোহেলের যুবলীগ অফিস দখল করেন মিশু। বর্তমানে সেটি পরিচিত স্বেচ্ছাসেবক দলের বনানী থানা অফিস হিসেবে। সেই অফিসকে কেন্দ্র করেই মিশু শুরু করেছেন চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মিশু ও তার ভাতিজা শফিকুল ইসলাম শাকিল মহাখালী এলাকায় বেপরোয়া মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন। শাকিল নিজেও একজন মাদকাসক্ত এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। আগে যেভাবে সোহেল রাতে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে পাড়ায় তাণ্ডব চালাতেন, এখন সেই একই কায়দায় চলছে ‘মিশু রাজত্ব’।
মহাখালীর আমতলী থেকে কাঁচাবাজার পর্যন্ত ফুটপাতের দোকান থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দোকানিরা জানান, টাকা না দিলে পণ্য ভাঙচুর, হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়। এক ব্যবসায়ী জানান, বনানীর একটি সিকিউরিটি কোম্পানির মালিক কাউসার আহমেদ বিজয়-কে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন মিশু। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আওয়ামী লীগ নেতা বানিয়ে পুলিশের ভয় দেখান মিশু।
বন ভবন এলাকায় এখন মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ মিশু ও শাকিলের হাতে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের মদত ছাড়া সেখানে একটি ট্যাবলেট বা ফেনসিডিলও বিক্রি হয় না। শুধু তাই নয়, স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতার নাম ব্যবহার করে মামলাবাণিজ্যেও জড়িত তারা।
মিশুর ভাতিজা শাকিলের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরাও। খাওয়ার পর বিল না দেওয়া, পার্সেল নিয়ে টাকা না দেওয়ার ঘটনা অহরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে দলবল নিয়ে এসে হামলা চালানো হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাখালী আমতলী মোড়, আমতলী পুলিশ বক্স সংলগ্ন এলাকা এবং কাঁচাবাজারের মূল ফটকে বিলবোর্ড আকৃতির বিশাল ব্যানারে ছেয়ে গেছে মিশুর ছবি ও নাম। এসব ব্যানারে স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচয় ব্যবহার করে ক্ষমতার মহড়া চালানো হচ্ছে। যেখানে সাধারণ বিজ্ঞাপনদাতার জন্য জায়গা পাওয়া দুষ্কর, সেখানে মিশুর রাজনৈতিক ব্যানার তার প্রভাব স্পষ্ট করে তোলে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, “আগে সোহেলের অত্যাচার সহ্য করতাম, এখন মিশু আর তার ভাতিজার তাণ্ডবে একপ্রকার বন্দি হয়ে গেছি। পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”





















