আইন-আদালত

মাধবপুরে চা বাগানে গাছ চুরি ও অনিয়মের অভিযোগে উত্তেজনা

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ , ১:২৭:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আমানত শাহ কোম্পানির মালিকানাধীন বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানে দুই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গাছ চুরি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ম্যানেজার বাংলো ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একজন ম্যানেজার পালিয়ে যান। পরে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগান বন্ধ ঘোষণা করে। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগানের ম্যানেজার শামসুল ইসলাম ভূইয়া ও ডেপুটি ম্যানেজার গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ গত কয়েক বছরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই হাজারো ঘনফুট কাঠ কেটে বিক্রি করেছেন। শ্রমিকরা বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রতিবাদ জানালেও বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সম্প্রতি বন বিভাগ বাগান এলাকা থেকে প্রায় শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করে। স্থানীয় দুই সাংবাদিকের উপস্থিতিতে জব্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, চা বোর্ড, বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এসব গাছ কাটা হয়েছে এবং বিক্রির অর্থ শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি ও শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন—“ম্যানেজাররা দীর্ঘদিন ধরে বড় গাছ কেটে পাচার করছেন, বিনা অনুমতিতে বাগানের মাটি বিক্রি করছেন। রাস্তা ও পানীয় জলের অব্যবস্থা রয়েছে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হচ্ছে।”

বাগান বন্ধ ঘোষণার পর শ্রমিকদের ঘরে নেমে এসেছে খাদ্যসংকট ও অনিশ্চয়তা। তারা প্রশাসনের কাছে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বাগান পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত ম্যানেজার শামসুল ইসলাম ভূইয়া বলেন,“একটি গোষ্ঠী চক্রান্তমূলকভাবে এসব অভিযোগ করছে। যে কয়টি গাছ কাটা হয়েছে, তা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে এবং কোম্পানির অনুমতি নিয়েই কাটা হয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।”

ডেপুটি ম্যানেজার গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন,“আমি কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমরা নিজেরাই লাগানো গাছ কেটেছি।”

জগদীশপুর বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মো. গোলাম কাদির জানান,“গাছ কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঠ জব্দ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সিলেট বিভাগের বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন,“চা বাগানে গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয় এবং ২০ শতাংশ রাজস্ব দিতে হয়। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা আইনবিরুদ্ধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

আরও খবর

Sponsered content