জাতীয়

যশোর-৬ আসনে নির্বাচনী তৎপরতা: একক প্রার্থী নিয়ে এগিয়ে জামায়াত, তিন নেতার প্রতিযোগিতায় বিএনপি

  এনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর–কেশবপুর) প্রতিনিধি: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ , ৮:৪৫:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ


আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব নানামুখী প্রস্তুতি ও আলোচনার ঝড়। এই আসনে বিরোধী রাজনৈতিক বলয়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে কয়েকগুণ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যেখানে একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, সেখানে বিএনপির তিন নেতা কেন্দ্রীয় ‘চূড়ান্ত সিগন্যাল’-এর অপেক্ষায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এখন তাদের কার্যক্রম ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মুক্তার আলী এই আসনে জামায়াতের একমাত্র সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। একক প্রার্থী হওয়ায় জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে—যা মাঠপর্যায়ে গতি এনেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক সমর্থন জামায়াতকে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

অন্যদিকে, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা।
তাদের মধ্যে রয়েছেন—

  • কাজী রওনকুল ইসলাম (শ্রাবণ), বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, যিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

  • আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি; তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিনের সংগঠক হিসেবে তাঁর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

  • অমলেন্দু দাস অপু, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক; যিনি কেন্দ্র ও স্থানীয় পর্যায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছেন।

বিএনপির এই তিন প্রার্থীই এখনো চূড়ান্ত মনোনয়নের নিশ্চয়তা পাননি। ফলে তাদের নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণা কার্যক্রম এখন মূলত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিরোধী রাজনৈতিক বলয়ের ফলাফল নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও প্রার্থী মনোনয়ন কৌশল-এর ওপর।
জামায়াতের একক প্রার্থী যেখানে দলটিকে সংগঠিত সুবিধা দিয়েছে, সেখানে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর প্রতিযোগিতা স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

জোটগত নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় এখন দেখার বিষয়—শেষ পর্যন্ত কে পান ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বা জোটের মনোনয়ন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই কেশবপুর আসনের নির্বাচনী চিত্র স্পষ্ট হবে।

আরও খবর

Sponsered content