কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: ২২ আগস্ট ২০২৬ , ৪:০৪:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি এসি বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজারের পশ্চিম পাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বাসটিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্ধার-তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ জানান, বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়ার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় যাত্রীদের নিরাপদে বাস থেকে বের করে আনা হয়। একই সঙ্গে বাসে থাকা যাত্রীদের মালামালও উদ্ধার করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
বাসের যাত্রী রায়হান জানান, তারা কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। তার সিট নম্বর ছিল এইচ-১। ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর বাসের ভেতরে প্রথমে পোড়া গন্ধ পান। কিছুক্ষণ পর আগুন দেখতে পান। তার অভিযোগ, আগুন লাগার বিষয়টি চালক বা হেলপার যাত্রীদের জানায়নি।
তিনি বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে বাসের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের বের করে আনেন।
আরেক যাত্রী মো. সোহেল রানা জানান, পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে তারা কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। বাসে আগুন লাগার পর ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয়রা দ্রুত জানালার কাচ ভেঙে তাদের বের করে না আনলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে তিনি জানান।
সোহেল রানা আরও অভিযোগ করেন, আগুন লাগার পর তিনি বাসের ভেতরে চালক ও হেলপারকে দেখতে পাননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই বাসের ভেতরে আতঙ্কের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে বাসের জানালার কাচ ভেঙে একে একে যাত্রীদের বের করে আনেন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর বাসটির চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণে কিছু সময় মহাসড়কের ওই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।





















