সারাদেশ

নাজিরপুরে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম, অভিযোগ দিলেন গভর্নিং বডির সদস্যরা

  নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ২২ আগস্ট ২০২৬ , ৪:১০:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শহীদ জিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সদস্যরা (১০ আগষ্ট) জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক এর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে দেখা যায়, গত ৩ ফেব্রæয়ারী ২০২৬ ইং তারিখ সহঃ অধ্যাপক (আইসিটি) মোমেনা খানম কে গভনির্ং বডির সকল সদস্য মিলে মিটিং এবং রেজুলেশন করে ৩ জন শিক্ষকের প্যানেল করে বোর্ডে পাঠনো হয় এবং তার মধ্য হইতে বোর্ড মোমেনা খানমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। দায়িত্বের ৬ মাস অতিক্রম হতেই প্রতিষ্ঠানের গভনির্ং বডির সদস্যদের সাথে কোন মিটিং রেজুলেশন না করে সদস্যদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা না করেই পূর্বের শিক্ষক প্যানেল এর কাগজ বোর্ডে পাঠিয়ে সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়োগ দেয়। এদিকে গভর্নিং বডির সদস্যরা মোমেনা খানমের মেয়াদ বাড়ানর জন্য বিদ্যোৎসাহী সদস্য (ভি,সি মনোনীত) সদস্য সহ মোট ৬ জন অভিভাবক সদস্য জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক এর নিকট লিখিত আবেদন করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারী কলেজ শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯ এর ৪(২) ধারা মোতাবেক, কলেজের অধ্যক্ষের পদ শুন্য হইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য উপাধ্যক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিষয় সমুহের মধ্য হইতে ১০ জন জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের তালিকা হইতে গভর্নিং বডির প্রস্তাবক্রমে ৩ জনের একটি প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করিবেন। ভাইস চ্যান্সেলর সংশ্লিষ্ট কলেজের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করিয়া প্যানেলভুক্ত ৩ জনের মধ্য হইতে তাহার বিবেচনায় উপযুক্ত যে কোন একজনকে উক্ত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দান করিবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গত ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখ নাজিরপুর শহীদ জিয়া কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান বালী স্বাক্ষরিত ৩ জনের একটি শিক্ষক প্যানেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর প্রেরন করা হয়। অতঃপর ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক ( ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়ের অনুমোদিত ১১১১১ নং স্মারকে মোমেনা খানমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

দায়িত্ব প্রদানের চিঠি পাওয়ার পর কলেজের গভর্নিং বডি মিটিং করে, রেজুলেশন করে মোমেনা খানমকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কিন্তু মোমেনা খানমের দায়িত্ব পালন করার ৬ মাসের মধ্যে গত ৬ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে ১৪৫০০ নং স্মারকে আরেকটি চিঠির মাধ্যমে সিদ্দিকুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কলেজের গভর্নিং বডির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

কলেজ গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য, মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা অবগত নই। এ ব্যাপারে কলেজ গভর্নিং বডির কোন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক প্যানেলও পাঠানো হয়নি।
কলেজের নির্বাচিত ছাত্র অভিভাবক মাহবুব খান বলেন, “এই কলেজে আমরা জায়গা দিয়েছি।আমি নির্বাচিত ছাত্র অভিভাবক অথচ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যাপারে কিছুই জানিনা। এ ব্যাপারে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। আশাকরি সুষ্ঠু সমাধান পাবো”।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোমেনা খানম বলেন, “আমি আই,সিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ভি,সি মহোদয় আমাকে যোগ্য মনেকরে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন শোকজ না করে আমাকে কি কারনে সরিয়ে দেয়া হয়েছে জানিনা। আমি দায়িত্ব পালন করার সময় ১৭ বছরের বৈষম্যের শিকার কলেজটিকে স্ব মহিমায় ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এমনকি ফ্যাসিস্ট আমলে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে নাজিরপুর কলেজ করা হয়। দায়িত্ব গ্রহনের পর কলেজটি তার পুরনো নাম শহীদ জিয়া কলেজে ফিরিয়ে oএনেছি। আমি চক্রান্তের শিকার, বিষয়টি পুনঃবিবেচনার আবেদন জানাই”।

এবিষয়ে কলেজের গভনির্ং বডির সভাপতি মো: মিজানুর রহমান বলেন, আমি কাউকে সাজেষ্ট করিনি প্রথম নিয়োগের সময় যে রেজুলেশন করা হয়েছিল তখন ৩ জনার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেখান থেকে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় বোর্ড মোমেনা খানমকে বাদ দিয়ে মো: সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content