মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ৩ নভেম্বর ২০২৫ , ২:৩৮:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের শাহজীবাজার রাবার বাগানে জীবনচক্র শেষ হওয়া ১৬ হাজার ২৫০টি রাবার গাছ বিক্রির টেন্ডারকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। শুধু শাহজীবাজার নয়, সিলেট অঞ্চলের আরও তিনটি রাবার বাগান—ভাটারা, সাতগাঁও ও রূপাইনছড়া—মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার গাছ বিক্রির দরপত্র প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফআইডিসি) প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ৩০ অক্টোবর শাহজীবাজার রাবার বাগানের ৮টি লটে গাছ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা সিলেট অঞ্চলের রাবার শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মুবিন তালুকদার ও তার ভাগিনা মহিবুর রহমান মামুনের পক্ষ নেন। অভিযোগকারীরা জানান, বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের মতিঝিল কার্যালয়ে টেন্ডার দাখিল করতে গেলে তাদের বলপূর্বক আটকে রাখা হয় এবং টেন্ডার জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়। তারা দাবি করেন, এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে।
এছাড়া, টেন্ডারের আগের রাতে একটি নির্দিষ্ট হোটেলে ঠিকাদারদের নিয়ে গোপন বৈঠক হয়। সেখানে মেসার্স তালুকদার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন তালুকদার উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনও আপসচুক্তিতে রাজি হননি বলে জানান।
গিয়াস উদ্দিন তালুকদার বলেন, “অসৎ কর্মকর্তাদের মদদে আমাদের টেন্ডার জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও বন ও পরিবেশ উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
অভিযোগে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র শাহজীবাজার নয়, অন্যান্য বাগানেও পূর্বের কস্ট এস্টিমেটের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কম দর ধরা হয়েছে। পূর্বের টেন্ডারের তুলনায় এবার প্রতি গাছে ৮০২ টাকা কমানো হয়েছে, ফলে শুধু শাহজীবাজার বাগানেই প্রায় ৯৭ লাখ ৮২ হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে বিএফআইডিসির সিলেট অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক শোভন কান্তি সাহা বলেন, “টেন্ডার প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা হয়েছে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য। কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের বিষয় আমাদের জানা নেই।”
অন্যদিকে শ্রমিক নেতা মুবিন তালুকদার ও তার ভাগিনা মহিবুর রহমান মামুন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী গিয়াস উদ্দিন তালুকদার বলেন, “সন্ত্রাসীদের দিয়ে কিছু অসৎ কর্মকর্তা আমাদের টেন্ডার জমা দিতে বাধা দিয়েছেন। বনশিল্প অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে এর প্রমাণ মিলবে।”
রাবার টেন্ডার প্রকল্পের পরিচালক মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, “চেয়ারম্যান স্যারের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অনিয়ম প্রমাণিত হলে টেন্ডার বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরেক কর্মকর্তা বিবেক সরকার বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করা হবে।”
বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রমাণ পেলে দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, অবিলম্বে অনিয়মিত টেন্ডার বাতিল করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় নতুন টেন্ডার আহ্বান করতে হবে। তারা অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।




















