আন্তর্জাতিক

শ্রীলংকার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থি রাজাপাকসে গ্রেপ্তার

  প্রতিনিধি ৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১:২৭:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু হাসপাতালের জন্য সংগ্রহ করা অনুদানের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে শ্রীলংকার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থি রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার কলম্বোর নিজ বাসভবন থেকে ৭৩ বছর বয়সী শিরান্থিকে গ্রেপ্তার করে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের স্ত্রী শিরান্থির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘সিরিলিয়া সাভিয়া’ দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা ১ কোটি শ্রীলংকান রুপি (প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার) যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। কলম্বোর লেডি রিজওয়ে শিশু হাসপাতালের জন্য একটি বিশেষায়িত স্ক্যানার কেনার উদ্দেশ্যে ওই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনা সরকার ইতোমধ্যে হাসপাতালটিকে একই ধরনের একটি স্ক্যানার দান করেছিল।

এদিকে সাবেক এ ফার্স্ট লেডি তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ বা অন্য কোনোভাবে অপব্যবহার করা হয়নি।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেওয়ার পর সোমবার দেশে ফেরেন তিনি। গ্রেপ্তার ঠেকাতে এর আগে আদালতে আবেদন করেছিলেন শিরান্থি। তবে তার আবেদনের শুনানি আগামী ১২ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের মুখপাত্র মনোজ গামাগে জানিয়েছেন, দাতব্য সংস্থার ব্যাংক হিসাবে অর্থ নিরাপদে রয়েছে এবং কোনো ধরনের প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাৎ হয়নি।

২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। দীর্ঘদিন দেশটির রাজনীতিতে তার পরিবারের ব্যাপক প্রভাব ছিল। ২০০৯ সালে তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের পরাজিত করে প্রায় তিন দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর কারণে তার সমর্থকদের কাছে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন।

তবে ২০২২ সালে তীব্র মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের সংকটকে কেন্দ্র করে শ্রীলংকাজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহিন্দার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে। বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা দুর্নীতির তদন্তগুলো আবারও সক্রিয় করা হয়েছে।

মাহিন্দা ও শিরান্থির বড় ছেলে নামাল রাজাপাকসেকেও চলতি বছরের শুরুতে তার বাবার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সম্পাদিত একটি উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

তাদের আরেক ছেলে ইয়োশিথা রাজাপাকসেকেও চলতি বছরের শুরুতে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আরও খবর

Sponsered content