সারাদেশ

সরকারের তৈরি গেজেট ওহির বাণী না, গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে

  প্রতিনিধি ১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৮:০৪:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আমরা বলেছিলাম জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে গেলে একটি সাংবিধানিক আদেশ জারি করতে হবে। আমরা ধন্যবাদ জানাই, সরকার বিলম্বে হলেও সেই জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক আদেশ জারি করে গেজেট প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দুঃখের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি, সেই গেজেটে একই দিনে গণভোটের কথাও বলেছেন। আমরা সরকারকে বলতে চাই, সরকারের আদেশ, সরকারের তৈরি করা গেজেট এটা তো ওহির বাণী কিংবা কোরআনের বাণী না। এটা আপনারা কারো পরামর্শ করেছেন। এই গেজেট পরিবর্তন করতে হবে। আদেশ পরিবর্তন করে নির্বাচন সুষ্ঠ করতে গেলে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে।’

রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে ৮ দল আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত সেক্রেটারী বলেন, ‘একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে উত্তরাঞ্চলের ত্যাগ ও ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে ‘নতুন বাংলাদেশ’-গড়ার প্রয়াসে আটদলীয় জোট অভিন্ন পাঁচ দফা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে, যা সারাদেশে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছে।’

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, নির্বাচনের আগে এখনো প্রশাসনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীসহ আটদলীয় জোটের সভা-সমাবেশে হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ অবস্থায় নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আজ খুলনার আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে খুনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলার নাজুক অবস্থা স্পষ্ট করে। যে দেশে আদালতের সামনে হত্যা হয়, সে দেশে নির্বাচনের দিন ভোট ডাকাতি বা হামলা হবে না—তার নিশ্চয়তা নেই।’

গোলাম পরোয়ার জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এতে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ভিন্নমত দমনের রাজনীতির পরিবর্তনের পথ সুগম হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারকে সংকটে ফেলতে চাই না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কথা বলে যাচ্ছি। এখনো সময় আছে—জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করুন। জনগণের ম্যান্ডেটকে নষ্ট করার কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। জুলাই সনদের আলোকে আগে গণভোট, পরে পার্লামেন্ট গঠিত হবে। এই ক্রমে কোনো পরিবর্তন জনগণ মেনে নেবে না।’

তিনি বলেন, ‘৫৪ বছরে আমরা তিনটি দলকে ক্ষমতায় দেখেছি—এদের প্রত্যেকের শাসনকালেই বাংলাদেশ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। তারা সন্ত্রাস করেছে, লুটপাট করেছে, ভিন্নমত দমন করেছে। ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের কারাগারে, রিমান্ডে, ক্রসফায়ারে কিংবা ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে হত্যা করেছে। ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংস করেছে। আগামী বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখানোর বাংলাদেশ।’

জোট সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের আটদলীয় জোট আরও বড় হচ্ছে। বেশ কিছু রাজনৈতিক দল জোটে যুক্ত হতে আবেদন করেছে। খুব শিগগিরই এই জোটের পরিধি বাড়বে।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহার, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিশের নায়েবে আমীর আব্দুল হামিদ, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আশরাফ আলী আকন্দ প্রমুখ।

এ ছাড়া রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও মুফতি ইমরানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি শেখ মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাকসুর ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতারা।

আরও খবর

Sponsered content