প্রতিনিধি ৭ আগস্ট ২০২৫ , ১১:৪৬:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে: এক সময় পাড়ার মোড়ে ছোট্ট মুদি দোকান চালাতেন। সেই মোখলেসুর রহমান মুকুল এখন রাজশাহীর ‘হুন্ডি মুকুল’ নামে পরিচিত। অবৈধ হুন্ডি ও পাচার, বিদেশে হোটেল কেনা, ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া—সব মিলিয়ে আলোচিত এই ব্যক্তিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে কক্সবাজারের সুগন্ধা বিচ পয়েন্ট থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান। তিনি জানান, রাজশাহীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলার ভিত্তিতে মুকুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রাজশাহীর কাঁঠালবাড়িয়া গোবিন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন প্রতিবেদনে দেশের শীর্ষ হুন্ডি সিন্ডিকেটের তালিকায় দ্বিতীয় নামটি ছিল মুকুলের।

তদন্তে জানা যায়, মুকুলের রয়েছে রাজশাহী ও ঢাকায় চারটি বাড়ি, কাশিয়াডাঙ্গায় সাততলা ভবন, দুইটি বিলাসবহুল গাড়ি, এবং প্রায় ৪০ বিঘা জমি, যার মধ্যে রাজশাহীতেই আছে ২০ বিঘা। শহরের বাইপাস গরুর হাটে তার শেয়ার রয়েছে, এছাড়া মক্কা ও মদিনায় দুটি আবাসিক হোটেলের মালিক তিনি।
সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদের ঘনিষ্ঠ মুকুল রাজশাহী সিটি করপোরেশনে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন গত তিন বছরে। শুধু বন্ধগেট-সিটি বাইপাস রোডের প্রকল্পেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মূল্য থেকে অতিরিক্ত দামে কাজ করে অবৈধ টাকা বৈধ করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মুকুলের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ জারি করেন গোলাম সারওয়ার নামের এক ব্যবসায়ী। অভিযোগে বলা হয়, যৌথ ব্যবসার অংশ হিসেবে মুকুল গোলাম সারওয়ারের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা তুলে নেন, ব্যবসায়িক বিশ্বাসের ভিত্তিতে দেওয়া স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেকের অপব্যবহার করে। এছাড়া অব্যবহৃত ৩০-৪০টি চেক এখনো ফেরত দেননি তিনি।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভারতীয় চোরাকারবারি এনামুলের সঙ্গে মুকুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ভারত সরকার যখন নগদ অর্থের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু করে, তখন এনামুল তার ১,০০০ কোটি রুপি মুকুলের মাধ্যমে পাচার করেন। পরে অর্ধেক অর্থ ফেরত দিলেও বাকি অংশ নিজের কাছে রেখে দেন মুকুল।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদকে একটি দামি গাড়ি উপহার দিয়ে পবা ও গোদাগাড়ীর বালুঘাটের ইজারা লাভ করেন মুকুল। আত্মগোপনে থাকার সময়েও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বালুমহালের ইজারায় স্বাক্ষর করায় এলাকাজুড়ে প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়।
মুখোশ খুলে পড়ে হুন্ডি মুকুলের। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে কক্সবাজার আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




















