প্রতিনিধি ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ১:২২:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে লড়াই করেছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তবে মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের পেস আক্রমণে ৩৪৬ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। প্রথম দিনের ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। বাকি ৮.৩ ওভারে ২৯ রান যোগ করতেই শেষ দুই উইকেট হারায় দলটি।
ভারতের বিপক্ষে গত জুনে নিউ চণ্ডীগড় টেস্টে ১৪০ রানে ৬ উইকেট নেওয়া সেলিম এবার তাইজুল ইসলামকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন। ইয়ামিন আহমদজাই শিকার করেন তিন উইকেট। ইবাদত হোসেনকে শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ উইকেটটি নেন ইয়ামিন। ৬৭ বলে চারটি চারে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন নাঈম হাসান। বাংলাদেশের মূল দলে জায়গা না পাওয়া এই ক্রিকেটার গত সপ্তাহে অনুশীলন ম্যাচের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে রিজার্ভ খেলোয়াড় হিসেবে গিয়ে পরে দলে সুযোগ পান।
টেস্ট ক্রিকেটে আফগানিস্তানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার এক ইনিংসে তাদের পেসাররা নয়টি উইকেট পেলেন। সেলিম ও ইয়ামিনের সঙ্গে ইসমত আলমও দুটি উইকেট নিয়ে অবদান রাখেন।
প্রথম দিন বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। মাত্র ৭১ বলে ৮৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তানজিদ। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। কখনো কভার অঞ্চলের ওপর দিয়ে, কখনো সরাসরি মাঠের সীমানা পেরিয়ে বল পাঠিয়েছেন তিনি। পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তানজিদ। শাদমান ইসলামকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১২৪ রান।
তবে মধ্যাহ্নবিরতির কিছুক্ষণ আগে আউট হয়ে যান তানজিদ। টেস্টের প্রথম সেশনেই সেঞ্চুরি করার বিরল সুযোগ হাতছাড়া হয় তার। ইসমত আলমের বলে উইকেটের কাছে দাঁড়িয়ে বল ধরার সিদ্ধান্ত নেন আফগান উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিল। তার সেই কৌশল সফল হয়। একই ওভারে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ।
নিজের নবম টেস্ট অর্ধশতক তুলে নেন শাদমান। মুমিনুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬০ রান। সেলিম প্রথমবারের মতো শর্ট বলের কৌশল প্রয়োগ করলে ৬৭ রানে আউট হন শাদমান। এরপর ৩৯ রান করে ফেরেন মুমিনুল। ইয়ামিনের দুর্দান্ত ইয়র্কারে উইকেট হারান মুশফিকুর রহিম। কিছুক্ষণ পর কায়েস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ২৯ রানে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
মাত্র ১৮ বলের মধ্যে এই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ হাল ধরেন। দুজনের জুটিতে আসে ৬২ রান। তবে ইসমত আলমের বলে ভেতরের কানায় লেগে নিজের উইকেট ভেঙে যাওয়ায় ফিরে যান মেহেদী।
অস্ট্রেলিয়া সফরে টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া লিটন এবার প্রয়োজনীয় অর্ধশতক তুলে নেন। ৮৯ বলের ইনিংসে চারটি চার মারেন তিনি। তবে সেলিমের বলে ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল চলে যায় ফাইন লেগে। সেখানে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন ইয়ামিন। একই ওভারে এর আগে হাসান মাহমুদের বুকে বল লাগিয়েছিলেন সেলিম। পরে ইয়র্কারে তাকেও বোল্ড করে দেন এই আফগান পেসার।















