প্রচ্ছদ

হাতিয়ায় সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে গোপনে রাখার অভিযোগে তাঁতী দল নেতা বহিষ্কার

  প্রতিনিধি ১ আগস্ট ২০২৫ , ১:১৬:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বেদনকে নিজ বাড়িতে আত্মগোপনে রাখার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের এক ইউনিয়ন নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ সৈকত হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের তাঁতী দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি একই ইউনিয়নের মজু মাঝি চেয়ারম্যান বাড়ির বাসিন্দা মো. জসিমের ছেলে।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোরশেদ আলম নিপু। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক ইকবাল করিম সোহেল ও সদস্য সচিব নিপুর স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সৈকতের বহিষ্কার আদেশ জারি করা হয়। 
চিঠিতে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ সৈকতের দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড সংগঠনের জন্য বিব্রতকর। দলীয় আদর্শ ও নীতিমালার পরিপন্থী আচরণ করায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনে যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় হাতিয়া উপজেলা তাঁতী দলের দক্ষিণ ইউনিটকে সতর্ক করা হয়েছে।

 জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোরে বুড়িরচর ইউনিয়নের জোড়খালী গ্রামে সৈকতের বাড়ি থেকে ১০টি ককটেলসহ পুলিশ সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলাউদ্দিন বেদনকে আটক করে। তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হরিষপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের ওই শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আটক হওয়া আলাউদ্দিন বেদন ও সৈকতের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে—তারা ফুফা-ভাগনে।বহিষ্কারপ্রাপ্ত মোহাম্মদ সৈকত বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। বেশিরভাগ সময় দোকানে থাকি, বাড়িতে তেমন থাকি না। পরে শুনেছি, উনি (আলাউদ্দিন বেদন) ৭-৮ দিন আগে আমাদের বাড়িতে এসেছেন এবং বাড়ির অন্য ঘরে বিয়েও করেছেন। তাঁর অবস্থানের বিষয়টি পরিবারের কেউ জানত না। জানলে অবশ্যই পুলিশকে অবহিত করতাম।”

জেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোরশেদ আলম নিপু বলেন, “একজন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকে আত্মগোপনে থাকার সুযোগ করে দেওয়া গুরুতর অপরাধ। তাই দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় সৈকতকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা কমিটিকেও সতর্ক করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”

আরও খবর

Sponsered content