রাজনীতি

ঝিনাইদহের পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান বন্ধ, ভোগান্তিতে প্রসূতিরা

  তানভীর সরদার, স্টাফ রিপোর্টার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৭:৫৯:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

 

ঝিনাইদহ জেলার পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রসূতিদের বাধ্য হয়ে ছুটতে হচ্ছে দূরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে। এতে একদিকে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে মা ও নবজাতক পড়ছেন চরম ঝুঁকিতে।

কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, হরিণাকুন্ডু ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সেবা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। মহেশপুরে প্রায় এক বছর ধরে কোনো সিজারিয়ান হয়নি। এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ও গাইনি চিকিৎসকের অভাবই এ সংকটের মূল কারণ। অথচ প্রতিটি হাসপাতালেই আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্যালাইন স্ট্যান্ডসহ প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সচল অবস্থায় রয়েছে।

মহেশপুর উপজেলার প্রসূতি লাবনি আক্তার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে গেলে খরচ কম হতো। কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে দূরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।”
কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেলে গরিব মানুষ কোথায় যাবে?”
হরিণাকুন্ডুর গৃহবধূ রানী খাতুন জানান, “ক্লিনিকে গেলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। গরিব মানুষ কীভাবে এই টাকা জোগাড় করবে?”

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, “সব উপজেলাতেই অপারেশনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক সংকট বড় সমস্যা। দ্রুত পদায়ন হলে আবারও সিজারিয়ান চালু করা সম্ভব হবে।”

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চিকিৎসক থাকলে শুধু এই পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই প্রতি মাসে অন্তত ২০০ প্রসূতি সরকারি সেবা পেতেন। দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান বন্ধ থাকায় জেলার অসংখ্য গরিব পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আরও খবর

Sponsered content