সারাদেশ

ফুলে ফুলে বদলে যাচ্ছে কুষ্টিয়া শহর, প্রশংসায় ভাসছে ‘ক্লিন কুষ্টিয়া–গ্রিন কুষ্টিয়া’ উদ্যোগ

  হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৫৩:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

 

কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুর গেট থেকে ঝিনাইদহ ও ঈশ্বরদীমুখী সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার আইল্যান্ডজুড়ে এখন চোখ জুড়ানো দৃশ্য। রং–বেরঙের ফুল ও নানান প্রজাতির সৌন্দর্যবর্ধক গাছে ভরে উঠেছে সড়ক বিভাজক। ফুলে ফুলে ছেয়ে যাওয়া এই আইল্যান্ড বদলে দিয়েছে পুরো জেলা শহরের চিত্র। নগরবাসীর পাশাপাশি পথচারী ও পর্যটকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে প্রশান্তি।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্লিন কুষ্টিয়া-গ্রিন কুষ্টিয়া (জিকে-কেকে)। সংগঠনটির এই কার্যক্রম ইতোমধ্যেই নগরজুড়ে প্রশংসার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রবেশদ্বার বটতৈল মোড় ও ত্রিমোহনী থেকে মজমপুর গেট পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ। গাছের ফাঁকে ফাঁকে বেড়ে উঠেছে ঘাস, যা অনেক গৃহপালিত পশুর মালিক সংগ্রহ করে নিচ্ছেন। নতুন আসা মানুষজন গাড়ির জানালা খুলে উপভোগ করছেন এই সৌন্দর্য।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিকে-কেকের নিজস্ব অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে এসব গাছ রোপণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণে সহযোগিতা করছে কুষ্টিয়া পৌরসভা। প্রয়োজনে পৌরসভার গাড়িতে গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত পরিচর্যায় অংশ নিচ্ছেন।

সপ্তাহের ছুটির দিনে সংগঠনের সদস্যরা গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি সড়কের পাশে ছড়িয়ে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। দোকানদাররা এখন আগের তুলনায় পলিথিন ফেলায় অনেক বেশি সতর্ক।

এই সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন,
“পরিবেশ নিয়ে যে যেভাবেই কাজ করুক না কেন, তা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আগে রোড ডিভাইডার থাকলেও এমনভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়নি। উদ্যোগটি খুব ভালো। তবে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক হলে এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই হবে।”

জিকে-কেকের উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি-র সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার জানান, গাছ রোপণে শতভাগ প্রকৌশল বিদ্যার সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা ইচ্ছেমতো গাছ লাগাইনি। আমাদের কনসালটেন্ট গার্ডেন ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলাদেশ। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাছ লাগানো হয়েছে। কোন গাছ কত বছরে কত উচ্চতা হবে, সবকিছু হিসাব করেই পরিচর্যা করা হবে। এতে সড়কে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে না।”

তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের স্বপ্ন তিনি অনেক আগেই দেখেছিলেন। মূল কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। বর্তমানে সংগঠনটিতে প্রায় ৯ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। আটটি বেডে ধারাবাহিকভাবে গাছ লাগানো হয়েছে—এর মধ্যে সাতটি বেডে সৌন্দর্যবর্ধক ফুলের গাছ এবং একটি বেডে ফলজ গাছ, যাতে পাখিরা এখান থেকেই খাবার সংগ্রহ করতে পারে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন,
“গাছগুলো এখন সবার সম্পদ। তাই এগুলো রক্ষায় পৌরসভাও তৎপর। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়া ও সার্বিক নজরদারি অব্যাহত আছে।”

ফুলে ফুলে সাজানো এই সড়ক শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, পরিবেশ সচেতনতার নতুন বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে কুষ্টিয়া শহরজুড়ে।

আরও খবর

Sponsered content