মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:৩১:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
‘জ্ঞানই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রংপুরে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার, রংপুরের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর ডেপুটি ডিরেক্টর (লাইব্রেরি) আব্দুস সামাদ প্রধান।
বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার, রংপুরের প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান ও উপপরিচালক সালাহ্ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান আবেদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, “এই গ্রন্থাগারে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি বই ও ১৯ হাজারের বেশি ই-বুক রয়েছে। কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা খুব দ্রুত পূরণ করা হবে। আমার কর্মকালেই এখানে একটি আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে।” তিনি বলেন, গ্রন্থাগার যেন সবার জন্য শান্তির আশ্রয়স্থল হয় এবং এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগে—সেই লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের মনোবল বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুত করা এবং জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গ্রন্থাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রন্থাগার দিবসের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিও পরিচালিত গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা গ্রন্থাগার সেবার মান ও কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মূলত লাইব্রেরির বই পড়েই উপকৃত হয়েছি। অবসর সময় আড্ডায় না কাটিয়ে লাইব্রেরিমুখী হলে জ্ঞান ও দক্ষতা—দুটোই বাড়বে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন ও ডেপুটি ডিরেক্টর আব্দুস সামাদ প্রধান। বক্তারা বলেন, গ্রন্থাগার এখন কেবল বই পড়ার স্থান নয়—এটি জ্ঞান বিতরণ কেন্দ্র, সামাজিক মিলনমেলা এবং বিনোদনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। গণতন্ত্রের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গ্রন্থাগার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে।
আলোচনা সভা শেষে বইপাঠ, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৭৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩২ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।




















