সারাদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলিতে নিহত তরুণের লাশ গ্রামে, শোকে স্তব্ধ রাণীশংকৈল

  হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১১:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ


অভাব ঘুচিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি দেওয়া তরুণ সোহান (২১) ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ছয় দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে তার মরদেহ পৌঁছায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের নিজ বাড়িতে।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। শেষবারের মতো একনজর দেখতে গ্রামবাসীর ঢল নামে। কান্না ও শোকের আবহে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

নিহত সোহান ওই গ্রামের দুলাল মিয়ার একমাত্র ছেলে। সংসারের হাল ধরতে ধারদেনা করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তার পরিবার।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কতলেহং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন সোহান।

সেদিন সন্ধ্যায় নামাজের পর লোডশেডিংয়ের সুযোগে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢুকে পড়ে। দোকানের মালিক পেছনে চলে গেলে একা থাকা সোহানকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, দোকানের বাংলাদেশি মালিকের সঙ্গে পাশের এক সোমালি নাগরিকের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল, যার জেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হামলা চালানো হতে পারে।

শুক্রবার সকালে সোহানের মৃত্যুসংবাদ গ্রামে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা।

নিহতের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, “ছেলের লাশ দেখতে হবে কখনো ভাবিনি। ধারদেনা করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম ভাগ্য বদলাতে, এখন সব শেষ হয়ে গেল।”

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং একই দিন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

প্রবাসে জীবন বদলের স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া বহু তরুণের মতো সোহানের এই মৃত্যু আবারও প্রবাস জীবনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির কঠিন বাস্তবতাকে সামনে এনে দিল।

আরও খবর

Sponsered content