সারাদেশ

বদলগাছীতে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা, হলুদ ফুলে মোড়া মাঠে কৃষক ও দর্শনার্থীদের ভিড়

  নওগাঁ প্রতিনিধি : ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:০৬:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষ। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে সরিষার ক্ষেত। এতে একদিকে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, অন্যদিকে হলুদে মোড়া দিগন্তজোড়া মাঠ প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়েছে।

শীতের শেষ প্রান্তে সরিষার হলুদ ফুলে ঢাকা মাঠ যেন হলুদের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির বুকে। নানা রঙের পোশাকে ফুলপ্রেমীরা সরিষা ক্ষেতে ভিড় করছেন ছবি ও সেলফি তুলতে। মৌমাছি, প্রজাপতি ও নানা জাতের কীটপতঙ্গের আনাগোনা এবং মধু সংগ্রহের দৃশ্য পুরো পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বদলগাছী উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৮ এবং বিনা-৪ ও বিনা-১১ জাতের সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে।

বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আব্দুল রউফ বলেন, “বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম অনেক বেশি। নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ বছর এক একর জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, আশা করছি ভালো লাভ করতে পারবো।”

একই উপজেলার কৃষক মিজানুর রহমান খান জানান, “অল্প সময়ে কম খরচে বেশি ফলনের আশায় প্রতি বছরের মতো এবারও পৌষের প্রথম সপ্তাহে এক একর ২০ শতাংশ জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন সন্তোষজনক হয়েছে।”

কোলা ইউনিয়নের ভান্ডারপুর গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন, “এ বছর এক একর তিন শতাংশ জমিতে আগাম জাতের বারি-১৪ সরিষা চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো। সরিষার শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবেও কাজে লাগে। আগামী ২০–২৫ দিনের মধ্যে সরিষা সংগ্রহ শেষে ওই জমিতে তিল আবাদ করবো।”

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। রোগবালাই প্রতিরোধ ও বিনা চাষে সরিষা আবাদ বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আশা করছি এ বছর সরিষা চাষে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন।”

আরও খবর

Sponsered content