রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) দ্রুত অনুমোদনের দাবিতে একনেক সভার দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর। রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আন্দোলনকারীরা বিসিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এক ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় ‘ডিপিপি অনুমোদন চাই, স্থায়ী ক্যাম্পাস চাই’, ‘রবীন্দ্রনাথের জমিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় চাই’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
একনেক সভার প্রতি জোর দাবি
মানববন্ধনে উপস্থিত জামায়াত ইসলামীর শাহজাদপুর শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন, “সরকার আজকের একনেক সভায় যেন ডিপিপি অনুমোদন দিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়।”
শাহজাদপুর সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি মির্জা হুমায়ুন বলেন, “রবীন্দ্রনাথের জমিতে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, তাই ভূমি অধিগ্রহণের কোনো প্রয়োজন নেই। তবুও ডিপিপি আটকে থাকার কারণ বোধগম্য নয়।”
প্রশাসনের সরব উপস্থিতি
আন্দোলনে অংশ নিতে ঘটনাস্থলে আসেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হাসান তালুকদার, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমদ। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড তুলে দেন উপাচার্যসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের হাতে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, “এই প্ল্যাকার্ডেই আমাদের বক্তব্য ফুটে উঠেছে।”
প্রতীকী ক্লাসের ঘোষণা
সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে ঘোষণা আসে পরবর্তী কর্মসূচির। আগামীকাল সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ সংলগ্ন ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে প্রতীকী ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। একই সময় চলবে মানববন্ধন কর্মসূচিও।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি ইতোমধ্যে নির্ধারিত ও হস্তান্তরিত হলেও ডিপিপি অনুমোদনের অভাবে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করা যাচ্ছে না। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও পরিচালন কাঠামো ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরাও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো অঞ্চলের গর্ব। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।”
সংবাদদাতার মন্তব্য:
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী কাঠামো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প যদি বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকে, তবে প্রশ্ন উঠে সরকারের সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক গতি সম্পর্কে। একনেক সভার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ গোটা শাহজাদপুরবাসী।




























